সরকারি শেয়ারের ভালো সময়

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

আনোয়ার ইব্রাহীম

সর্বশেষ দুই সপ্তাহে তালিকাভুক্ত ৬৮ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে। এতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৩৮ পয়েন্ট হারিয়েছে। এমন দরপতনের মধ্যেও অধিকাংশ সরকারি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। বাজার-সংশ্নিষ্টরা জানান, মুনাফা বৃদ্ধির তথ্য আগাম ফাঁসের খবর শেয়ারগুলোর দরবৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।

সরকারি ১৮ কোম্পানির সাম্প্রতিক শেয়ারদরের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত দুই সপ্তাহে এসব কোম্পানির শেয়ারদর গড়ে সাড়ে ৪ শতাংশ হারে বেড়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস, পাওয়ার গ্রিড, রেনউয়িক যজ্ঞেশ্বর, শিপিং করপোরেশন এবং মেঘনা পেট্রোলিয়ামের দর ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বেশিরভাগের দর বৃদ্ধির বর্তমান ধারা শুরু হয় গত ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে। এর মধ্যে চলতি বছরের প্রথম ছয় সপ্তাহেই এগুলোর শেয়ারদর গড়ে ১৮ শতাংশ হারে বেড়েছে। যেখানে বহুজাতিকসহ অন্য সব খাতের গড় শেয়ারদর বেড়েছে ১০ শতাংশ।

শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, বাজারের সার্বিক ঊর্ধ্বমুখী ধারায় সব শেয়ারেরই দর বেড়েছে। তবে তুলনামূলক সরকারি কোম্পানির দর বেড়েছে বেশি। দেখা গেছে, কোম্পানিগুলোর দর বৃদ্ধির ধারা শুরুর পরই এগুলোর মুনাফায় বড় প্রবৃদ্ধির খবর বাজারে চাউর হয়েছে। এ থেকে ধারণা করা হয়, কেউ মুনাফা বৃদ্ধির খবরটি আগে জেনে বিনিয়োগ করেছে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রথম ছয় সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সাবমেরিন কেবলসের দর। গত বছরের শেষে এর লেনদেন হয়েছে ৯৪ টাকায়। এখন দর ১৫৪ টাকা। মাঝে গত এক বছরের সর্বোচ্চ দর ১৭১ টাকায় কেনাবেচা হয়েছিল। মূলত গত বছরের ২৪ অক্টোবর থেকে শেয়ারটির দর বৃদ্ধি শুরু হয়। গত সাড়ে তিন মাসে এর দর ৭৪ টাকা থেকে বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। গত জানুয়ারি শেষে অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী এর শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৪৩ পয়সা, যা গত হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ৬ পয়সা। এর আগে গত ১৪ নভেম্বর কোম্পানি জানিয়েছিল, প্রথম প্রান্তিকে এর ইপিএস হয়েছে ৪৭ পয়সা, যা এর আগের হিসাব বছরে ছিল মাত্র ৩ পয়সা।

এরপর যে শেয়ারটির দর সবচেয়ে বেশি বেড়েছে, তা হলো রেনউয়িক যজ্ঞেশ্বর। চলতি বছরের প্রথম ছয় সপ্তাহে এর দর ৪০ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২২০ টাকায় ওঠে, যা এ কোম্পানির গত এক বছরের সর্বোচ্চ দর। গত নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া দর বৃদ্ধির ধারায় থাকা কোম্পানিটিও মুনাফায় বড় উল্লম্ম্ফনের খবর দিয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি ব্যবসায়িক গ্রুপ বিআরবির মালিকপক্ষ কোম্পানিটির শেয়ার কিনে পর্ষদে আসছে এমন গুঞ্জনও দরবৃদ্ধি উস্কে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

একই সময়ে শিপিং করপোরেশনের শেয়ারদর বেড়েছে ২৮ শতাংশ। সর্বশেষ কেনাবেচা হয়েছে সাড়ে ৪৯ টাকায়। মাঝে গত এক বছরের সর্বোচ্চ দর ৫৩ টাকা ৭০ পয়সায় কেনাবেচা হয়েছিল। এ শেয়ারটিরও দর বৃদ্ধির ধারা শুরু হয় গত নভেম্বরের শুরুতে।

সরকারি আরেক কোম্পানি পাওয়ার গ্রিডের দর এ বছর এখন পর্যন্ত বেড়েছে ২৭ শতাংশ। শেয়ারটি সর্বশেষ কেনাবেচা হয়েছে ৬১ টাকা ৬০ পয়সায়, যা গত বছরের শেষে ছিল ৪৮ টাকা। গত দুই সপ্তাহে বাজারে সার্বিক দরপতনের মধ্যেও এ শেয়ারটির দর ১৬ শতাংশের ওপর বেড়েছে।

পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, প্রথম ছয় সপ্তাহে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের দর ২৩ শতাংশ বেড়ে সর্বশেষ ২৩০ টাকায় কেনাবেচা হয়েছে। ডেসকোর শেয়ারদর ২১ শতাংশ, রূপালী ব্যাংকের ২১ শতাংশ, শ্যামপুর সুগারের ১৭ শতাংশ, ইস্টার্ন কেবলসের ১৪ শতাংশ, তিতাস গ্যাসের সাড়ে ১১ শতাংশ এবং ন্যাশনাল টিউবসের শেয়ারদর ১০ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া ৯ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে পদ্মা অয়েলের, পৌনে ৮ শতাংশ বেড়েছে উসমানিয়া গ্লাসের এবং ৫ শতাংশ বেড়েছে আইসিবি ও যমুনা অয়েলের শেয়ারদর। এদিকে চলতি বছরের শুরুর তুলনায় এখনও দর বেড়ে কেনাবেচা হলেও গত দুই সপ্তাহে ১৬ শতাংশ দর হারিয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি বিডি অটোকারের। তাছাড়া আইসিবির দর কমেছে ৬ শতাংশ, রূপালী ব্যাংকের দর কমেছে ৫ শতাংশ এবং ইস্টার্ন কেবলসের দর কমেছে ৪ শতাংশ।