সূচকের পতন বন্ধ হয়নি

লেনদেনও কমেছে

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯     আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

পতন ঠেকাতে সক্রিয় হয়েছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিসহ সংশ্নিষ্ট পক্ষ। পতনের কারণ জানতে গতকাল সোমবার সকালে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিনিয়োগ সংস্থা আইসিবিসহ শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রধানদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপরই আইসিবি একাধিক দফায় শেয়ার কিনে সূচকের পতন ঠেকানোর চেষ্টা করেছে।

এমন প্রচেষ্টায় সূচকের বড় পতন ঠেকানো গেলেও টানা নিম্নমুখী ধারা থামানো যায়নি। শেষ পর্যন্ত বাজারের প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স গতকাল আরও প্রায় ৩০ পয়েন্ট হারিয়ে ৫৭৩৪ পয়েন্টের নিচে নেমেছে। যদিও লেনদেনের মাঝে এক পর্যায়ে সূচকটি গত এক মাসের সর্বনিম্ন ৫৭০৯ পয়েন্টে নেমেছিল।

চলমান দরপতনের কারণ জানতে শীর্ষ ব্রোকার ও মার্চেন্ট ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি স্বীকার করে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সাইফুর রহমান সমকালকে বলেন, বাজার যখন যৌক্তিক কারণ ছাড়া বাড়তে থাকে তখনও কমিশন সংশ্নিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলাপ করে। তেমনি দরপতনের সময়ও কথা বলা হয়। গতকালের যোগাযোগটি এমনই ছিল।

এ দরপতনের কারণ কী- এমন প্রশ্নের জবাবে কমিশনের মুখপাত্র বলেন, নানা গুজবই এর প্রধান কারণ। এ ছাড়া যৌক্তিক কিছু কারণও আছে। যেমন গ্রামীণফোনকে এসএমপি ঘোষণার খবরটি গতকাল পত্রিকায় এসেছে। এতে শেয়ারটির দরপতন হওয়ায় সূচকে বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পাশাপাশি অনেক বৃদ্ধির পর বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর সংশোধন হচ্ছে। এটিও সূচকে বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এমন অবস্থায় পুরো পরিস্থিতি বুঝে উঠতে না পারায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। এ অবস্থায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যাতে অকারণে ভীত না হন, তা বোঝাতে সংশ্নিষ্টদের কাজ করতে বলা হয়েছে।

গতকালের সূচকের পতন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, একক খাত হিসেবে সূচকের পতনে বড় ভূমিকা ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাতের। এ খাতের দরপতনে ডিএসইএক্স সূচক ১০ পয়েন্ট কমে। খাতটির ৩১ কোম্পানির মধ্যে ২০টিই দর হারিয়েছে। একক খাত হিসেবে সূচকে এরপরের সর্বাধিক নেতিবাচক প্রভাব ছিল ব্যাংক এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের। উভয় খাতের কারণে সূচকটি হারায় ৭ থেকে সাড়ে ৭ পয়েন্ট।

একক কোম্পানি হিসেবে সর্বাধিক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে রেনেটার সোয়া ৩ শতাংশ দরপতন। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৪১ টাকা কমায় ডিএসইএক্স হারায় সাড়ে ৬ পয়েন্ট। এ ছাড়া গ্রামীণফোনের শেয়ারদর ৯ টাকা কমায় প্রায় ৫ পয়েন্ট এবং ব্র্যাক, স্কয়ার ফার্মা, প্রাইম ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, লাফার্জ-হোলসিম সিমেন্ট, আইডিএলসি, সামিট পাওয়ার, হেইডেলবার্গ সিমেন্ট, সিটি ব্যাংক, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, লিনডে বিডি, বার্জারের দরপতনে সূচকটি হারায় আরও প্রায় ২০ পয়েন্ট। বিপরীতে আইএফআইসি, শাহজালাল, পূবালী, আল-আরাফা, এক্সিম, প্রাইমসহ ১০ ব্যাংকের শেয়ারদর বৃদ্ধি সূচকে কিছু পয়েন্ট যোগ করেছে, যা সূচকের বড় পতন কিছুটা ঠেকিয়েছে।

দিনের লেনদেন শেষে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ১৫৫ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দর বৃদ্ধির বিপরীতে ১৫১টি দর হারিয়েছে এবং অপরিবর্তিত ৩৯টির দর। শেয়ার লেনদেন নেমেছে ৭১৯ কোটি টাকায়, যা রোববারের তুলনায় ৯৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা কম। চট্টগ্রামকেন্দ্রিক শেয়ারবাজার সিএসইতে ১২৫ শেয়ারের দর বৃদ্ধির বিপরীতে ১১০টির দর কমেছে এবং অপরিবর্তিত থেকেছে ২৮টির দর।

খাতওয়ারি লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সার্বিক দরপতনের মধ্যেও বীমা এবং বস্ত্র খাতের সিংহভাগ শেয়ারের দর বেড়েছে। বিশেষত দরপতনের মধ্যেও বীমা খাতের শেয়ারের উল্লেখযোগ্য দর বৃদ্ধি সকলের দৃষ্টি কেড়েছে। গতকাল খাতটির ৪৭ কোম্পানির মধ্যে ৪১টির দর বেড়েছে, কমেছে চারটির। এর মধ্যে অন্তত ১৫ বীমা কোম্পানির শেয়ার দিনের সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ দরে (১০ শতাংশ বেশি) বেড়ে কেনাবেচা হয়েছে এবং বিক্রেতাশূন্য অবস্থায় ছিল। গতকাল সব মিলে ১৯টি শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়।

সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হওয়া বীমা খাতের শেয়ারগুলো হলো- বাংলাদেশ ন্যাশনাল, ঢাকা, ইস্টল্যান্ড, ফেডারেল, গ্লোবাল, প্যারামাউন্ট, প্রাইম, পূরবী, রিপাবলিক, রূপালি, সোনারবাংলা, ইউনাইটেড, এশিয়া প্যাসিফিক, বাংলাদেশ জেনারেল এবং প্রভাতি ইন্স্যুরেন্স। অথচ গত রোববার বীমা খাতেরই ১৩ শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন দরে কেনাবেচা হয়েছিল। ছিল ক্রেতাশূন্য অবস্থায়।

এ ছাড়া বস্ত্র খাতের ৫৩ কোম্পানির মধ্যে গতকাল ৩৩টির দর বেড়েছে, ১৫টির দর কমেছে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, খাতটির অন্তত ১৩ কোম্পানির শেয়ারদর ৩ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ৭ শতাংশ দর বেড়েছে নূরানি ডাইংয়ের। প্রকৌশল খাতের ২০টির দর বেড়েছে ও কমেছে ১৬টির। বিপরীতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ১৯ কোম্পানির মধ্যে গতকাল ১৬টিরই দর কমেছে। সিমেন্ট খাতের সাত কোম্পানির সবগুলোর দর কমেছে। মিশ্রধারা ছিল ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ অন্য সব খাতে।