আবার বেড়েছে বিএটিবির দর

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০১৯     আপডেট: ১৫ মার্চ ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ম সমকাল প্রতিবেদক

বিক্রির বদলে কেনার চাপ বাড়ায় আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের (বিএটিবি) শেয়ার দর। ২০০ শতাংশ বোনাসসহ মোট ৭০০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণার পর গত মঙ্গলবার লেনদেনের শুরুতে দেড় হাজার টাকারও বেশি দর বেড়ে শেয়ারটি সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় কেনাবেচা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ওইদিন লেনদেন শেষের হিসাবে দর বেড়েছিল ৬৫০ টাকা। ওই দরবৃদ্ধির সুযোগ নিতে কিছু বিদেশি বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করায় বুধবার দর ৩০ টাকা কমেছিল।

গতকাল বৃহস্পতিবারের লেনদেন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, লভ্যাংশ ঘোষণার পর তৃতীয় দিনে এসে বিএটিবির শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দর ৪ হাজার ৭৭৬ টাকায় কেনাবেচা হয়। গতকাল এক লাখ ১৭ হাজার ৪৬০টি শেয়ার সাড়ে ৫৫ কোটি টাকায় কেনাবেচা হয়। অন্যদিকে বড় বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণার পর দ্বিতীয় দিনে বিএটিবির মতো সামান্য দর কমেছে ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের শেয়ারের। চলতি সপ্তাহে বড় লভ্যাংশ ঘোষণার পর শেয়ার দুটি এখন বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের শীর্ষে।

এদিকে বিএটিবির দেখাদেখি, গতকাল বহুজাতিক ১২ কোম্পানির মধ্যে ১০টিরই বাজারদর বেড়েছে। এর মধ্যে বাটা সু ও রেকিট বেনকিজার সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়। অন্যদিকে বার্জার পেইন্টস ও মারিকোর শেয়ারদর কিছুটা কমলেও সার্বিক বিচারে বাকি কোম্পানিগুলোর দর গড়ে সাড়ে ৩ শতাংশ বেড়েছে।

বাটা সুর শেয়ার গতকাল সর্বোচ্চ এক হাজার ২৮২ টাকায় এবং রেকিট বেনকিজারের শেয়ার সর্বোচ্চ তিন হাজার ২৪৬ টাকা দরে কেনাবেচা হয়। এর বাইরে গ্লাক্সোস্মিথক্লাইনের দর সোয়া ৪ শতাংশ বেড়ে সর্বশেষ এক হাজার ৫৭০ টাকায়, হেইডেলবার্গ সিমেন্টের দর সাড়ে ৪ শতাংশ বেড়ে সর্বশেষ ৩৫৮ টাকায় কেনাবেচা হয়েছে। সোয়া ২ শতাংশের ওপর দর বেড়েছে লিনডে বিডি এবং সিঙ্গার বাংলাদেশের। তবে মারিকোর দর ১ শতাংশ কমে এক হাজার ৫৩০ টাকায় নেমেছে।

বুধবারের বড় উত্থানের পর গতকাল ডাচ্‌-বাংলার শেয়ার ৩০ পয়সা দর হারিয়ে সর্বশেষ ২১৮ টাকায় কেনাবেচা হয়। যদিও শেয়ারটি গতকাল সর্বনিম্ন ২০৮ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২২৩ টাকা ৫০ পয়সায় কেনাবেচা হয়। প্রায় ১১ লাখ ৫৩ হাজার শেয়ার ২৫ কোটি টাকায় কেনাবেচা হয়েছে। তবে গতকাল ব্যাংক খাতের বেশিরভাগ শেয়ারের দর কমেছে। ৩০ ব্যাংক কোম্পানির মধ্যে ১০টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৬টির এবং বাকি চারটির দর অপরিবর্তিত।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ক্লোজিং প্রাইসের হিসাবে বিএটিবির শেয়ারপ্রতি ২১০ টাকা ৬০ পয়সা দরবৃদ্ধির কারণে ডিএসইএক্স সূচকে যোগ হয়েছে প্রায় ১৫ পয়েন্ট। এছাড়া ব্র্যাক ব্যাংকের চার টাকা ২০ পয়সা দরবৃদ্ধির কারণে সূচকটিতে আরও প্রায় ১০ পয়েন্ট যোগ হয়। রেনেটা, স্কয়ার ফার্মা, হেইডেলবার্গ, সাউথইস্ট ব্যাংক, লাফার্জ-হোলসিম, বাটা সুর শেয়ারদর বৃদ্ধিতে সূচকে যোগ হয়েছে আরও প্রায় ১১ পয়েন্ট। এরপরও ডিএসইএক্স সূচক মাত্র ২ পয়েন্ট বেড়ে ৫৬৫৫ পয়েন্টে উঠেছে।

বড় শেয়ারগুলোর বাজারদর বৃদ্ধি বেশ ইতিবাচক প্রভাব ফেলার পরও সূচকটি যথেষ্ট না বাড়ার কারণ সপ্তাহের শেষ কার্য দিবসেও দেশের প্রধান এ শেয়ারবাজারে অধিকাংশ শেয়ার দর হারিয়েছে। গতকাল এ বাজারে লেনদেন হওয়া ৩৪৭ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৭৭টির বা ২২ শতাংশের দর বেড়েছে। বিপরীতে ২৩১টির বা প্রায় ৬৭ শতাংশের দর কমেছে। বাকিগুলোর দর অপরিবর্তিত। দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইতে ২১ শতাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে, দর হারিয়েছে প্রায় ৬৯ শতাংশ।

ডিএসইর খাতওয়ারী লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গতকাল সব খাতের বেশিরভাগ শেয়ারের দর কমেছে। উদাহরণ স্বরূপ আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের পাঁচটির দর বৃদ্ধির বিপরীতে ১৪টির দর কমেছে। একইভাবে বীমার পাঁচ শেয়ারের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ৩৭টির, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের চারটির দরবৃদ্ধির বিপরীতে ১৪টির, প্রকৌশল খাতের সাতটির দরবৃদ্ধির বিপরীতে ৩০টির, ওষুধ ও রসায়ন খাতের আটটির দরবৃদ্ধির বিপরীতে ১৯টির, বস্ত্র খাতের নয়টির দরবৃদ্ধির বিপরীতে ৩৮টি শেয়ারের দর কমেছে। একই চিত্র ছিল ছোট খাতগুলোতেও।