বাজেটের দিকে তাকিয়ে বিনিয়োগকারীরা

প্রকাশ: ১১ জুন ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

আসছে বাজেটে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রত্যাশার চেয়েও বেশি কিছু প্রণোদনা থাকবে- অর্থমন্ত্রীর এমন আশ্বাসে ঈদের ছুটির আগের সপ্তাহে শেয়ারদর ও সূচকের ঊর্ধ্বমুখী ধারা ছুটি শেষেও বজায় আছে। বাজার-সংশ্নিষ্টরা জানান, বাজেটে অর্থমন্ত্রী তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করবেন- এমন আশা থেকেই ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ঈদের ছুটির পর টানা দ্বিতীয় দিনে গতকাল সোমবারও বেশিরভাগ শেয়ারের দর ও সূচক বেড়েছে। গতকালের ২৮ পয়েন্টসহ গত দু'দিনে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে প্রায় ৫৪ পয়েন্ট। ছুটির আগের সপ্তাহে সূচকটি বেড়েছিল ১২৭ পয়েন্ট। গত জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে রেকর্ড টানা ১৩ সপ্তাহ দরপতনের পর অর্থমন্ত্রীর নানা বাজেট প্রণোদনার প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষাপটে এমন ঊর্ধ্বমুখী ধারায়  আছে বাজার।

বিনিয়োগকারীরা কোন ধরনের প্রণোদনায় বেশি খুশি হতে পারেন- এমন প্রশ্নে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্রোকারদের সংগঠন ডিবিএ সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক করহার কমানো, দ্বৈত করনীতি পরিহার করা হলে এবং একই সঙ্গে অন্তত তিন  বছরের বিনিয়োগের শর্তে বিনা প্রশ্নে অপ্রদর্শিত  আয় শেয়ারবাজারে সুযোগও বিনিয়োগকারীরা  পছন্দ করবেন।

ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, অর্থমন্ত্রী শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের 'প্রত্যাশার পারদ' অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি প্রত্যাশা পূরণ করবেন, এ বিশ্বাস আছে। কোনো প্রতিশ্রুতি না দিলে ক্ষতি ছিল না। তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রণোদনা না থাকলে নেতিবাচক চিত্র দেখা দিতে পারে বলে তার আশঙ্কা।

বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন বাজেটে শেয়ারবাজারের জন্য বড় প্রণোদনার মধ্যে অন্যতম হলো করমুক্ত লভ্যাংশ আয়ের সীমা বৃদ্ধি। এর বাইরে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগের প্রস্তাবও বাজেটে থাকতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। এ ছাড়া দ্বৈত করহার নীতি পরিহারের যে আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী, সে বিষয়েও ঘোষণা থাকতে পারে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনালের ব্যবসায় অনুষদ বিভাগের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মূসা বলেন, এসব প্রণোদনায় বিনিয়োগকারীরা খুশি হবেন বলে মনে হয় না। কারণ, করমুক্ত লভ্যাংশের আয়ের সীমা বাড়লেও এ সুযোগ কখনও পান না বিনিয়োগকারীরা। অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হলেও দুদক ও মানি লন্ডারিং আইনের কারণে এ সুযোগ কেউ নেন না। তাছাড়া দ্বৈত করনীতি পরিহারের আশ্বাস সবাই দেয়, কেউই বাস্তবায়ন করে না। প্রাতিষ্ঠানিক করহার কমানো হবে না- এটা আগেই এনবিআর জানিয়ে দিয়েছে।

শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ আবু আহমেদ বলেন, নানা কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা এখনও তলানিতে। আস্থা বাড়াতে এবং শেয়ারবাজারকে কার্যকর অবস্থানে নিয়ে যেতে নতুন অর্থমন্ত্রীর জন্য এবারের বাজেটই বড় সুযোগ। তিনি কতটা প্রত্যাশা পূরণ করেন, সেদিকেই পুরো শেয়ারবাজার তাকিয়ে আছে।