বড় দরপতনে সপ্তাহ শুরু

মিউচুয়াল ফান্ডের দরবৃদ্ধি অব্যাহত

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

দরপতন দিয়ে চলতি সপ্তাহের লেনদেন শুরু হয়েছে। প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ২৫ শতাংশের কম শেয়ারের দরবৃদ্ধির বিপরীতে প্রায় ৬৮ শতাংশ শেয়ারের দরপতন হয়েছে। দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইতে ২৯ শতাংশের বিপরীতে ৬১ শতাংশ শেয়ার দর হারিয়েছে। দর হারানো শেয়ারগুলোর মধ্যে শীর্ষে ছিল বীমা খাতের শেয়ার।

অধিকাংশ শেয়ারের দরপতনের কারণে প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্সের পতন হয়েছে প্রায় ৪৮ পয়েন্ট। গতকাল ডিএসইতে মোট ৪১৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। সিএসইতে কেনাবেচা হয়েছে ১৮ কোটি ২০ লাখ টাকার শেয়ার।

তবে এমন দরপতনের মধ্যেও মিউচুয়াল ফান্ড খাতের দরবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত আছে। গতকাল রোববার ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৭ মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে মাত্র একটির দর কমেছে। বাকি ৩৬টির মধ্যে ৩৫টিরই দর বেড়েছে, অপরিবর্তিত ছিল বাকি একটির দর। গড়ে সব ফান্ডের বাজারদর সাড়ে ৫ শতাংশের ওপর বেড়েছে।

গতকালও ডিএসইতে ১৯ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড দিনের সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়েছে। অবশ্য ১৬টিই ছিল মিউচুয়াল ফান্ড। যেসব ফান্ড সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়েছে, সেগুলো হলো- প্রথম জনতা, প্রাইম ফাইন্যান্স প্রথম, এবি ব্যাংক প্রথম, এআইবিএল প্রথম, এশিয়ান টাইগার গ্রোথ ফান্ড, সিএপিএম বিডিবিএল, ইবিএল প্রথম, ইবিএল এনআরবি, এক্সিম ব্যাংক প্রথম, আইএফআইসি প্রথম, ফনিক্স ফাইন্যান্স প্রথম, পিএইচপি প্রথম, পপুলার প্রথম, এসইএমএল এফবিএসএল। যে তিন শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়েছে সেগুলো হলো- ইস্টার্ন কেবলস, মিথুন নিটিং, রূপালী ইন্স্যুরেন্স।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বাকি ১৮ খাতের লেনদেন হওয়া ৩১৬ কোম্পানির শেয়ারের মধ্যে মাত্র ৫২টির দর বেড়েছে। কমেছে ২৩৮টির এবং অপরিবর্তিত থেকেছে ২৬টির দর। পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, গতকাল দরপতনের বাইরে কোনো খাতই  ছিল না।

উদাহরণস্বরূপ ব্যাংক খাতের ৩০ কোম্পানির মধ্যে ২৩টিরই দর কমেছে, বেড়েছে মাত্র তিনটির এবং অপরিবর্তিত বাকি চারটির দর। একইভাবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের ২৩ কোম্পানির মধ্যে ১৪টির দর কমেছে, বেড়েছে চারটির। বীমা খাতের ৪৭ কোম্পানির মধ্যে ৩২টির দর কমেছে, বেড়েছে ১০টির। সার্বিকভাবে এসব খাতের পৌনে ১ শতাংশ থেকে ১ শতাংশ পর্যন্ত দরপতন হয়েছে।

এ ছাড়া উৎপাদন ও সেবামুখী খাতগুলোর মধ্যে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ১৯ কোম্পানির মধ্যে ১৪টির, প্রকৌশল খাতের ৩৮ কোম্পানির মধ্যে ২৯টির, ওষুধ ও রসায়ন খাতের ৩২ কোম্পানির মধ্যে ২৪টির, বস্ত্র খাতের ৫৫ কোম্পানির মধ্যে ৪৪টির, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের ১৭ কোম্পানির মধ্যে ১৪টির দর কমেছে। ছোট ১০ খাতের দরপতন ছিল তুলনামূলক বেশি। গতকাল এসব খাতের লেনদেন হওয়া ৫৬ কোম্পানির মধ্যে মাত্র আটটির দর বেড়েছে। বাকি ৪৫টিই দর হারিয়েছে।