ক্রেতাশূন্য পিপলস লিজিং, বড় দরপতন

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের কোম্পানি পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (পিএলএফএস) অবসায়ন হতে যাচ্ছে- এমন খবরে শেয়ারটির বড় দরপতন হয়েছে। শুধু এ শেয়ার নয়, গতকাল মঙ্গলবার দেশের দুই শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া দুই-তৃতীয়াংশ শেয়ারের দরপতন হয়েছে। তবে একদিনের ব্যবধানে দরবৃদ্ধির ধারায় ফিরেছে মিউচুয়াল ফান্ড।

লেনদেন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, শেয়ারদরের সার্কিট ব্রেকারের নিয়মানুযায়ী গতকাল সর্বোচ্চ ৪০ পয়সা দর হারিয়ে পিপলস লিজিংয়ের শেয়ার সর্বনিম্ন ৩ টাকা ৬০ পয়সা দরে কেনাবেচার সুযোগ ছিল, হয়েছেও তাই। বিক্রেতারা এ দরে তাদের শেয়ার বিক্রি করতে চেয়েছেন। যদিও চার ঘণ্টার লেনদেনের প্রায় পুরো সময় শেয়ারটি প্রায় ক্রেতাশূন্য অবস্থায় ছিল।

বাজার-সংশ্নিষ্টরা জানান, অবসায়ন হলে দায়-দেনা পরিশোধের পর শেয়ারহোল্ডাররা শেষ পর্যন্ত কিছু পাবেন কি-না, তা নিয়ে সন্দেহে আছেন বিনিয়োগকারীরা। এজন্য বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডাররা যে দরই পাচ্ছেন, সে দরেই শেয়ারটি ছেড়ে দিতে চাচ্ছেন। ক্রেতা না থাকায় দিনের সর্বনিম্ন দরেই বিক্রির আদেশ দিচ্ছেন। কিন্তু ভয়ে কেউ শেয়ারটি কিনতে চাচ্ছেন না। এ কারণে লেনদেন হয়েছে সামান্য। তাছাড়া এমন খবরের নেতিবাচক প্রভাব বাজারের সার্বিক লেনদেনে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তারা।

গতকাল মঙ্গলবার প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ৩ টাকা ৬০ পয়সা দরে ৪ লাখ ২৬ হাজার ১৮৬ শেয়ার ১৫ লাখ ৩০ হাজার টাকায় কেনাবেচা হয়েছে। অপর শেয়ারবাজার সিএসইতে ১ লাখ ৬০ হাজার ৮০১ শেয়ার ১ লাখ ১৬ টাকায় কেনাবেচা হয়েছে। যদিও গতকাল লেনদেনের শেষ পর্যন্ত ২ লাখ ৩২ হাজার শেয়ার বিক্রির আদেশ ছিল এ বাজারে।

এদিকে গতকালও দেশের দুই শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হয়েছে। ডিএসইতে ২৪ শতাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধির বিপরীতে প্রায় ৬৯ শতাংশের দরপতন হয়েছে। সিএসইতে প্রায় ২৭ শতাংশের বিপরীতে প্রায় ৬৬ শতাংশ শেয়ার দর হারায়। অধিকাংশ শেয়ারের দরপতনের কারণে ডিএসইর প্রধান সূচক ৩৮ পয়েন্ট হারিয়ে ৫২৮০ পয়েন্টে নেমেছে। সূচক পতনের হার পৌনে ১ শতাংশ। এ নিয়ে চলতি সপ্তাহের তিন কার্যদিবসে সূচক কমেছে প্রায় ১০১ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

গতকালের দরপতন বিষয়ে বাজার-সংশ্নিষ্টরা জানান, নানা ইস্যুতে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা চরমে। এর মধ্যে পিপলস লিজিংয়ের অবসায়নের খবর বড় চিন্তায় ফেলেছে তাদের। বিনিয়োগকারীরা শঙ্কায় আছেন, আর্থিকভাবে দুর্বল এমন অন্যান্য ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমা কোম্পানির ক্ষেত্রেও এমন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এ কারণে এ ধরনের শেয়ারগুলোর দর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে।

গতকাল আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের ফারইস্ট ফাইন্যান্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, মাইডাস ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্সের শেয়ারদর ৫ শতাংশ হারে কমেছে। অবশ্য গতকাল ডিএসইতে অন্তত ২২ কোম্পানির শেয়ার ৫ শতাংশ বা এর বেশি হারে দর হারিয়েছে। ফাইন্যান্সের বাইরে দর হারানো অন্য শেয়ারগুলো হলো- গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স, রানার অটোমোবাইলস, মুন্নু সিরামিক, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, নর্দার্ন জুট, মুন্নু স্টাফেলার্স ও স্টাইল ক্রাফট।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গতকাল সব খাতের অধিকাংশ শেয়ারের দর কমলেও একদিনের ব্যবধানে আবারও দরবৃদ্ধির ধারায় ফিরেছে মিউচুয়াল ফান্ড। গতকাল ডিএসইতে এ খাতের ৩৭ ফান্ডের মধ্যে ৩৬টিরই বাজারদর বেড়েছে। একটির দর কমার পরও সার্বিকভাবে সব ফান্ডের বাজারদর গড়ে প্রায় ৫ শতাংশ হারে বেড়েছে। এ ছাড়া গতকাল ডিএসইতে ১৪টি মিউচুয়াল ফান্ডসহ ১৮ শেয়ার দিনের সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়।