অধিকাংশ শেয়ার দর হারালেও সূচক কমেছে সামান্য

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে হিমশিম খাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক সময়ের লেনদেন পরিস্থিতি দেখে এমনটাই মনে করছেন ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তাসহ সংশ্নিষ্টরা। তাদের মতে, নানা ইস্যুতে শেয়ারবাজারে অস্থিরতা চলছে। বড় বিনিয়োগকারীদের অধিকাংশই নিষ্ফ্ক্রিয়। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এখন বিনিয়োগ করা উচিত হবে কি-না, তা ঠিক করতে পারছেন না। এরই নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে লেনদেনে।

বাজার-সংশ্নিষ্টরা জানান, জুনে হিসাব বছর শেষ হয় এমন কোম্পানিগুলোর শেয়ারে দেখেশুনে বিনিয়োগ করতে চান অনেকে। অন্যদিকে, বাজেটে অবণ্টিত মুনাফা ও বোনাস লভ্যাংশের ওপর কর আরোপের প্রভাব নিয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি আছে। তা ছাড়া আগামী মাসে ঈদুল আজহার বিষয়ও এ সময়ে লেনদেনকে প্রভাবিত করছে বলে মনে করেন তারা।

এ অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ১১১ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দর বৃদ্ধির বিপরীতে ২০৪টি দর হারিয়েছে এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৮টির দর। অধিকাংশ শেয়ার দর হারালেও প্রধান সূচক ডিএসইএক্স মাত্র ২ পয়েন্ট হারিয়ে ৫১৩০ পয়েন্টে নেমেছে। দর হারানো শেয়ারসংখ্যার বিবেচনায় সূচক কম কমার কারণ গ্রামীণফোন, ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংকের মতো কিছু বৃহৎ মূলধনী কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধি। তা ছাড়া অধিকাংশ কোম্পানির লেনদেন সীমিত হয়ে পড়ায় শেয়ারদরে খুব বেশি প্রভাব পড়ছে না। দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইতেও একই চিত্র দেখা গেছে।

অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমার পরও গতকাল উভয় বাজারে অবশ্য শেয়ার কেনাবেচা বেড়েছে। দুই বাজার মিলে গতকাল ৪১২ কোটি ১০ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, যা বুধবারের তুলনায় ৭২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বেশি। এর মধ্যে ডিএসইর লেনদেন ৮৫ কোটি ৬৯ লাখ বেড়ে ৩৯৫ কোটি ৩০ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে। সিএসইতে কেনাবেচা হওয়া শেয়ারের মূল্য ছিল ১৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বুধবারের তুলনায় ডিএসইতে পাঁচ কোটি টাকার ওপর লেনদেন বেড়েছে মাত্র পাঁচ কোম্পানির। এক কোটি টাকার বেশি লেনদেন বেড়েছে ২৫ কোম্পানিতে। অন্যদিকে, পাঁচ কোটি টাকার ওপর লেনদেন কমেছে শুধু গ্রামীণফোনের। এক কোটি টাকার বেশি লেনদেন কমেছে ১৫ কোম্পানির। তা ছাড়া লেনদেন হওয়া অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদরের ওঠানামা ২ শতাংশে সীমাবদ্ধ ছিল।

বুধবারের তুলনায় লেনদেন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃদ্ধির পরও শেয়ারদর কমার বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্নিষ্টরা জানান, গতকাল ৩৫৩ কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচা হলেও লেনদেনের শীর্ষে ২০ কোম্পানির মোট লেনদেন ডিএসইর মোট লেনদেনের প্রায় অর্ধেক। অর্থাৎ লেনদেনের বেশির ভাগই হচ্ছে কয়েকটি কোম্পানির ক্ষেত্রে, লেনদেনও বাড়ছে ওই সব শেয়ারের জন্য।

শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা সমকালকে জানান, এ মুহূর্তে যারা বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছেন, তারা আগ্রাসীভাবে শেয়ার কিনছেন না। ধীরে ধীরে বাজারমূল্যে শেয়ার কিনছেন। এর দুটি অর্থ হতে পারে। নিকট ভবিষ্যতে শেয়ারবাজার পরিস্থিতি ভালো হবে, এমন দৃঢ়বিশ্বাস হয়তো তাদের নেই। তাই বেশি ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। আবার এমনও হতে পারে, বাজারের বর্তমান সংকটাবস্থার সুযোগ নিয়ে ধীরে ধীরে শেয়ার কিনতে চান তারা।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সর্বাধিক পৌনে ২৬ কোটি টাকা লেনদেন বেড়েছে বিকন ফার্মার। বুধবার যেখানে এ কোম্পানির মাত্র ৭৮ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল, গতকাল তা সাড়ে ২৬ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর প্রভাবও ছিল শেয়ারটির দরে। প্রায় সাড়ে ৫ শতাংশ দর বেড়েছে। এ ছাড়া ফরচুন শুজের লেনদেন ১৯ কোটি ৬৮ লাখ বেড়ে ৪৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকায় উন্নীত হয়। এ শেয়ারের দরও বেড়েছে সাড়ে ৩ শতাংশ।

এ ছাড়া সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স, সি পার্ল রিসোর্ট, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স, ন্যাশনাল পলিমার, ভিএফএস থ্রেড, বেক্সিমকো লিমিটেড, রানার অটোমোবাইলস, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, ফার্মা এইডস, ব্র্যাক ব্যাংকের লেনদেন ২ থেকে ১২ কোটি টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর মধ্যে সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স, বেক্সিমকো

লিমিটেড ও ফার্মা এইডসের শেয়ারদর কমলেও বাকিগুলোর দর বেড়েছে।

ডিএসইর খাতওয়ারি লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গতকাল কোনো খাতেরই বেশির ভাগ শেয়ারের দর বাড়েনি; বরং আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, প্রকৌশলসহ বেশির ভাগ খাতের শেয়ার দর হারিয়েছে। মিশ্রধারায় ছিল ব্যাংক খাত। মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও ছিল দরপতন। তবে ১২ বহুজাতিক কোম্পানির মধ্যে সাতটির দর বেড়েছে, কমেছে চারটির দর। এ ছাড়া লেনদেন হওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত ১৮ কোম্পানির মধ্যে মাত্র পাঁচটির দর বেড়েছে।