মিউচুয়াল ফান্ডের দর বেড়েছে

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

সপ্তাহের শেষ কার্য দিবসে গতকাল বৃহস্পতিবার এসে বাড়ল বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। এতে বাজারের প্রধান মূল্য সূচকও সামান্য বেড়েছে। যদিও সপ্তাহের আগের তিন কার্য দিবসের সূচক কমার কারণে সার্বিক হিসাবে সূচকের বড় পতন হয়েছে। প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে প্রায় ৫১ শতাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে, কমেছে ৩৭ শতাংশের। দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইতে ৪৯ শতাংশ শেয়ারের দর বৃদ্ধির বিপরীতে ৩৬ শতাংশের দর কমেছে।

তবে গতকাল সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মিউচুয়াল ফান্ডের বাজার দর। ক্লোজিং প্রাইসের হিসাবে ৩৭ মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩৬টিরই দর বেড়েছে। যেখানে লেনদেন হওয়া ৩১৪ কোম্পানির শেয়ারের মধ্যে ১৪২টির দর বেড়েছে, দর হারিয়েছে ১৩১টি। প্রায় সব মিউচুয়াল ফান্ডের বাজার দর বৃদ্ধি পাওয়ায় গড়ে এ খাতের বাজার দর বেড়েছে ৬ শতাংশেরও বেশি। এমনকি ১৭টি ফান্ড দিনের সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়েছে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ ২০টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ১৭টিই ছিল মিউচুয়াল ফান্ড। শীর্ষ ৩০ বিবেচনায় নিলে এ সংখ্যা ছিল ২৩টি। শুধু বাজার দরই নয়, কয়েকদিন ধরে মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেনও বেড়েছে। বুধবারের তুলনায় গতকাল এ খাতের লেনদেন প্রায় সাড়ে নয় কোটি টাকা

বেড়ে সোয়া ৩৭ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা ছিল খাতওয়ারী লেনদেনের পঞ্চম অবস্থানে।

ফান্ডগুলোর দর বৃদ্ধির কারণ প্রসঙ্গে বাজার-সংশ্নিষ্টরা জানান, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির শীর্ষ পর্যায় থেকে বলা হয়েছে, কোনো মিউচুয়াল ফান্ড লভ্যাংশ আকারে আরআইইউ (প্রচলিত অর্থে বোনাস) দিতে পারবে না। ফান্ডগুলোর বাজার দর কম হওয়ায় ফান্ডগুলো যে হারে লভ্যাংশ ঘোষণা করবে, প্রকৃত বিনিয়োগের তুলনায় লভ্যাংশ আয়ের হার বেশি ও আকর্ষণীয় হবে- এমন ধারণায় ফান্ডে বিনিয়োগ বেড়েছে। এরই প্রভাব পড়েছে বাজার দরে।

তবে মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর বাজার দরের হ্রাস-বৃদ্ধি সূচক গণনায় বিবেচনায় নেওয়া হয় না। অন্যদিকে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার দর ওঠানামায় মিশ্রধারা ছিল। এরপরও কয়েকটি বৃহৎ মূলধনী শেয়ারের দর বৃদ্ধির ওপর ভর করে গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৮ পয়েন্ট বেড়ে ৫৩৮০ পয়েন্টে উঠেছে। এতে আগের তিন কার্য দিবসে প্রায় ৫৮ পয়েন্ট হারানোয় সপ্তাহের হিসেবে সূচকটি হারিয়েছে ৪৯ পয়েন্ট।

খাতওয়ারী লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বড় খাতগুলোর মধ্যে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বীমা খাতের অধিকাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে। এই তিন খাতের মধ্যে তুলনামূলক বেশি বেড়েছে বীমার শেয়ার দর। এ বাইরে অন্য সব বড় খাতের অধিকাংশ শেয়ারের দর কমেছে। ছোট খাতগুলোতে ছিল মিশ্রধারা। তবে গতকাল মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর বাজার দর বেড়েছে সবচেয়ে বেশি।

ডিএসইতে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বীমা খাতের তালিকাভুক্ত ১০০ কোম্পানির মধ্যে ৫৭টির বাজার দর বেড়েছে, কমেছে ২৭টির এবং বাকি ১৬টির দর ছিল অপরিবর্তিত। এর মধ্যে বীমা খাতের ৪৭ কোম্পানির মধ্যে ৩০টির বাজার দর বেড়েছে। ১৩ কোম্পানির শেয়ার দর কমার পরও বীমা খাতের সব শেয়ারের বাজার দর গড়ে ১ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের ২৩ কোম্পানির মধ্যে ছয়টির দর কমার পরও খাতটির সার্বিকভাবে ১ শতাংশ হারে দর বেড়েছে। কিন্তু জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, প্রকৌশল এবং বস্ত্র খাতের বেশিরভাগ শেয়ারের দর কমেছে। এই তিন খাতের তালিকাভুক্ত ১১২ কোম্পানির মধ্যে ৩৫ শেয়ারের দর বেড়েছে, কমেছে ৬৩টির দর। তবে ওষুধ ও রসায়ন খাতের ৩২ কোম্পানির মধ্যে ১৭টির দর বেড়েছে, কমেছে ১১টির দর। এর বাইরে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক, সিমেন্ট, সিরামিকসহ বাদ বাকি ১১ খাতের তালিকাভুক্ত ৭০ কোম্পানির মধ্যে ৩৩টির দর বেড়েছে, কমেছে ৩০টির দর। তবে তালিকাভুক্ত ৩৭ মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩৬টিরই বাজার দর বেড়েছে। গড়ে খাতটির সার্বিক বাজার দর বেড়েছে ৬ শতাংশেরও বেশি।