সূচক টেনে তুলল ব্যাংক খাত

ডিএসইতে বেশিরভাগ কোম্পানি দর হারিয়েছে

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

সপ্তাহের শুরুর দিনের লেনদেনে বেড়েছে সূচক। যদিও দুই শেয়ারবাজারেই লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ শেয়ার দর হারিয়েছে। ব্যাংকসহ বৃহৎ মূলধনি বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারের দর বৃদ্ধিই এর কারণ। সূচককে ঊর্ধ্বমুখী করতে সরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবিসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের তৎপরতা ছিল বলে বাজার-সংশ্নিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

দিনের লেনদেন শেষে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রোববার ডিএসইতে ১২৯ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের বাজারদর বেড়েছে। এর বিপরীতে ১৮০টি দর হারিয়ে কেনাবেচা হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত অপরিবর্তিত ছিল ৪৩টির দর। বেশিরভাগ কোম্পানি দর হারালেও প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১১ পয়েন্ট বেড়ে ৪৭৮২ পয়েন্টে উঠেছে।

একই চিত্র ছিল দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইতে। এ বাজারে ১০৪ শেয়ার ও ফান্ডের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ১১৫টির দর কমেছে এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৯টির দর। এ বাজারের প্রধান সূচক সিএসসিএক্স ২৩ পয়েন্ট বেড়ে ৭৭৪০ পয়েন্টে উঠেছে। দুই বাজারে কেনাবেচা হয়েছে ৩৬৪ কোটি ২৪ লাখ টাকার শেয়ার।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গতকাল অন্য সব খাতের অধিকাংশ শেয়ারের দর কমলেও বিপরীত চিত্র ছিল ব্যাংক, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের। ১৩টি ব্যাংকের শেয়ারের দর বেড়েছে এবং কমেছে ১০টির। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের ১০টির দর বেড়েছে এবং কমেছে ৬টির। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের ১৫ কোম্পানির মধ্যে ১০টির দর বেড়েছে, কমেছে ৪টির।

বিপরীতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের তিন কোম্পানির দর বৃদ্ধির বিপরীতে ১৫টির কমেছে। বস্ত্র খাতের ১৮ কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে, কমেছে ২৮টির। এ খাতের অনেক কোম্পানির দর উল্লেখযোগ্য কমায় সার্বিকভাবে পুরো খাতের দরপতন হয়েছে ২ শতাংশেরও বেশি। সিরামিক খাতের সব কোম্পানিই দর হারিয়েছে।

বেশিরভাগ শেয়ারের দর কমলেও সূচক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে ব্যাংক খাত। এ খাত সূচকে যোগ করেছে ৪ পয়েন্ট। তবে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, স্কয়ার ফার্মা, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের মতো বড় কোম্পানির শেয়ারের দরবৃদ্ধি সূচকে যোগ করেছে প্রায় ১৫ পয়েন্ট। যদিও বেক্সিমকো ফার্মা ও মবিল যমুনার শেয়ারের দরপতন সূচকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, গতকাল বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বেশিরভাগ শেয়ারের দর বেড়েছে। শেয়ারদরে ইতিবাচক চিত্র ছিল রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানির ক্ষেত্রেও। ১২ বহুজাতিক কোম্পানির মধ্যে আটটির দর বেড়েছে, কমেছে চারটির। উল্লেখযোগ্য হারে দর বেড়েছে লাফার্জ-হোলসিম সিমেন্ট, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, লিনডে বিডি, বাটা সু ও গ্লাক্সোস্মিথক্লাইনের।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর মধ্যে মেঘনা পেট্রোলিয়াম, যমুনা অয়েল, তিতাস গ্যাস, ন্যাশনাল টিউবস, ন্যাশনাল টির দর বেড়েছে। তবে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণার পর ১৩ শতাংশ দর বেড়ে দরবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল মালেক স্পিনিং। এ ছাড়া ইনফরমেশন সার্ভিসেস, এমারেল্ড অয়েল ও এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর ৯ থেকে সাড়ে ৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।