লেনদেনে আধিপত্য বীমার

৪৭ বীমা কোম্পানির শেয়ারের মধ্যে ৩৫টির দর বেড়েছে

প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

অন্য সব খাতের শেয়ারদরের বেহাল অবস্থা হলেও উল্টো চিত্র বীমা খাতে। গতকাল সোমবার বীমা বাদে অন্য ১৮ খাতের ১২১ কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির বিপরীতে ১২৫টির দর কমেছে। অথচ ৪৭ বীমা কোম্পানির শেয়ারের মধ্যে ৩৫টির দর বেড়েছে। প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর লেনদেনে এমনটাই দেখা গেছে।

বাজার-সংশ্নিষ্ট বেশ কিছু সূত্র জানিয়েছে, গুজব ছড়িয়ে একটি চক্র বীমা খাতের শেয়ারদর বাড়ানোর নেপথ্যে কাজ করছে। এ খাতকে চাঙ্গা করতে সরকার ও বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে- এমন গুঞ্জন তুলে দর বাড়াচ্ছে তারা। তবে কিছু বিও অ্যাকাউন্ট থেকে কৃত্রিমভাবে শেয়ার কেনার চাপ তৈরি করে দর বাড়ানো হচ্ছে বলে সংশ্নিষ্টরা জানান।

এ খাতের শেয়ারগুলোর মধ্যে গতকাল সর্বাধিক প্রায় ১০ শতাংশ দর বেড়েছে এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের। সর্বশেষ বেচাকেনা হয়েছে ২৭ টাকা ৩০ পয়সায়, যা ছিল গতকালের সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ দর। ২৫ টাকা দরে দিনের লেনদেন শুরুর পর দুপুর সাড়ে ১২টার আগেই তা সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে ওঠে। মূলত সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শেয়ারটির ব্যাপক লেনদেন হয়। এর পরই বিক্রেতাশূন্য অবস্থা সৃষ্টি হয়।

এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের মতো বিক্রেতাশূন্য না হলেও ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারও সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দর ২৬ টাকা ৯০ পয়সায় কেনাবেচা হয়, যদিও সর্বশেষ লেনদেনটি হয় ১০ পয়সা কমে। এর বাইরে বীমা খাতের অন্য কোনো শেয়ার সার্কিট ব্রেকার স্পর্শ না করলেও সিটি জেনারেল, জনতা, নর্দান, পিপলস, পূরবী জেনারেল ও স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর ৪ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। সার্বিক বিচারে শেয়ারদর বেড়েছে ১ শতাংশের বেশি।

নতুন করে শেয়ারদর বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ খাতে লেনদেনও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গতকাল ডিএসইতে এ খাতের ৪৭ কোম্পানির মোট লেনদেন ১০২ কোটি ১৩ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়, যা গত রোববারের তুলনায় ৩২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বেশি এবং মোট লেনদেনের প্রায় ২৫ শতাংশ। গতকাল লেনদেন হওয়া বাকি ২৯৩ কোম্পানির শেয়ার ও ফান্ডের ৩০৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এতে বেশ কয়েকদিনের বিরতির পর গতকাল ডিএসইতে লেনদেন আবার চারশ' কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

গতকাল বীমা খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের সর্বাধিক ১২ কোটি ১১ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এর পরের অবস্থানে থাকা সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্সের নয় কোটি ১৩ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের ছয় কোটি ৩৬ লাখ টাকার ও রূপালী লাইফের পাঁচ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।

গতকাল ডিএসইতে সর্বমোট ৪০৯ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। সার্বিক হিসাবে ১৫৬ কোম্পানির শেয়ার ও ফান্ডের দর বৃদ্ধির বিপরীতে ১৩৫টি দর হারিয়েছে এবং অপরিবর্তিত থেকেছে ৫০টির দর। অবশ্য চট্টগ্রামকেন্দ্রিক দেশের দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইতে ৯৬ কোম্পানির শেয়ার ও ফান্ডের দর বৃদ্ধির বিপরীতে ১১১টির দর কমেছে, অপরিবর্তিত থেকেছে ৩০টির দর।

বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪ পয়েন্ট বেড়ে ৪৭২২ পয়েন্টে উঠেছে। অন্যদিকে বেশিরভাগ শেয়ারের দর কমার কারণে সিএসইর প্রধান সূচক সিএসসিএক্স প্রায় ১৪ পয়েন্ট হারিয়ে ৮৭০৯ পয়েন্টে নেমেছে।

ডিএসইর খাতওয়ারি লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বীমার বাইরে গতকাল আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের বেশিরভাগ শেয়ারদর বেড়েছে। খাতটির লেনদেন হওয়া ২১ কোম্পানির মধ্যে ১১টির দর বেড়েছে, কমেছে তিনটির এবং অপরিবর্তিত ছিল বাকি সাতটির দর। অন্য খাতগুলোর মধ্যে ব্যাংক খাতের ১০ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে ১৫টির। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের সাত কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে সাতটির দর কমেছে। প্রকৌশল খাতের ১৫টির দর বেড়েছে, কমেছে ২২টির। ওষুধ ও রসায়ন খাতের ১৫টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৫টির। বস্ত্র খাতের ১৬ শেয়ারের দর বেড়েছে, কমেছে ২৬টির। অন্য সব খাতে ছিল মিশ্রধারা।

সার্বিক মিশ্রধারার মধ্যে গতকাল ১২ কোম্পানির শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়েছে। এগুলো হলো- এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, বিডি অটোকার, সিএনএটেক্স, এমারেল্ড অয়েল, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, মুন্নু স্ট্যাফেলার্স, তুংহাই নিটিং, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন কেবলস, সাফকো স্পিনিং এবং সি পার্ল। সর্বাধিক ১৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে ন্যাশনাল টিউবসের।