প্রায় এক মাসের চেষ্টায় দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫০০০ পয়েন্টের মনস্তাত্ত্বিক বাধা কাটিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ৩৯ পয়েন্ট বেড়ে সূচকটি হয়েছে ৫০১১ পয়েন্ট। ঠিক এক বছর পর সূচকটি এ মাইলফলক আবার পার করেছে।

ডিএসইএক্স সূচকের ১০০ পয়েন্ট পার হতে প্রায় এক মাস সময় লাগলেও এর আগে ৪০০০ পয়েন্ট থেকে প্রায় ৯০০ পয়েন্ট বেড়ে ৪৯০০ পয়েন্ট হতে সময় লাগে মাত্র দেড় মাস। ৭ জুলাই ডিএসইএক্স সূচকের অবস্থান ছিল ৪০০০ পয়েন্টে। এরপর ১৬ আগস্ট তা ৪৮৫৯ পয়েন্ট ছাড়ায়। গত এক সপ্তাহ ধরে সূচকটি ৫০০০ পয়েন্টের কাছে এসে বারবার কমে যাচ্ছিল।

বাজার-সংশ্নিষ্টরা জানান, দীর্ঘ মন্দা কাটিয়ে জুলাই থেকে শুরু হওয়া শেয়ারবাজারের উত্থান অনেকটাই অপ্রত্যাশিত ছিল। দীর্ঘদিনের সুশাসনহীনতার পাশাপাশি করোনাভাইরাস মহামারিতে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। অর্থনীতির দুরবস্থার মধ্যেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নতুন নেতৃত্ব বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। এতে আশাবাদী হয়ে ওঠেন বিনিয়োগকারীরা। ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও নতুন করে শুরু হলে শেয়ারবাজারে নতুন বিনিয়োগে আকৃষ্ট হন অনেকে।

অন্যতম প্রধান মার্চেন্ট ব্যাংক আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, জুলাইয়ে সব কিছু দ্রুত হয়। রাতারাতি বিনিয়োগ বাড়তে থাকে। ফলে অনেক শেয়ারের দর দ্রুত বেড়ে যায়। কিছু বিনিয়োগকারী ওই সময় আগ্রাসীভাবে শেয়ার কিনলেও নিষ্ফ্ক্রিয় অনেকে দোলাচলে ছিলেন। ফলে শুরুর উত্থানের সুবিধা খুব কম বিনিয়োগকারী নিতে পেরেছেন। গত এক মাসে ৪৮০০ থেকে ৪৯০০ পয়েন্টে সূচকের আটকে থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, শুরুর উত্থানে প্রায় সব শেয়ারের বাজারদর বেড়েছে। বেশ কিছু শেয়ারের দর ৩০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। কিছু রুগ্‌ণ কোম্পানির শেয়ারদর ৫ থেকে ৬ গুণও হয়েছে। এক থেকে দেড় গুণ দর বেড়েছে এমন শেয়ারের সংখ্যাও কম নয়। কিন্তু বহু আগে যারা শেয়ার কিনেছিলেন, তারা এ দরবৃদ্ধির সুবিধা পাননি। কারণ, তাদের শেয়ার কেনা ছিল বর্তমানে তুলনায় অনেক বেশি দরে। এখনও অনেকের শেয়ারে লোকসান রয়েছে। তারা নতুন করে বিনিয়োগ পোর্টফোলিও সাজাতে আগের শেয়ার বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে যারা কিনেছিলেন, তারাও শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা তুলে নিচ্ছেন। এতে বিক্রি চাপও বেড়েছে। আবার বাজারকেন্দ্রিক নানা ইস্যু বিশেষত জেড ক্যাটাগরির শেয়ার নিয়ে বড় পরিবর্তনের কারণেও বাজার কিছুটা অস্থির ছিল। যে অস্থিরতা ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠছে।

রাজধানীর বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানান, সূচকের ওঠানামা কিছুটা সীমিত হয়ে পড়লেও কিছু শেয়ারের দর ক্রমে বাড়ছে। নানা গুজবও ক্রমে ছড়াচ্ছে। এতে আকৃষ্ট হয়ে অনেকে নতুন বিনিয়োগে আসছেন। প্রতিদিন হাউসগুলোতে শেয়ার কেনার জন্য নতুন টাকা জমা দিচ্ছেন অনেকে। এতে শেয়ার কেনার চাপ বাড়ছে।

গতকাল ডিএসইতে ১৯০ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের বাজার দর বেড়েছে। অন্যদিকে কমেছে ১১৭টির এবং অপরিবর্তিত থেকেছে ৪৯টির দর। দিনব্যাপী কেনাবেচা হয়েছে এক হাজার ২৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকার শেয়ার। দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইতে ১৪৭ শেয়ারের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ৮৩টির দর কমেছে। কেনাবেচা হয়েছে ২৯ কোটি ২২ লাখ টাকার শেয়ার।

গতকাল বীমা ছাড়া অন্য প্রায় সব খাতের বেশিরভাগ শেয়ারের বাজারদর বেড়েছে। তবে কমেছে মিউচুয়াল ফান্ডের দর। ব্যাংক খাতের ৩০ কোম্পানির মধ্যে ২০টির দর বেড়েছে, কমেছে ২টির। আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের ১৩টির দরবৃদ্ধির বিপরীতে সাতটির দর কমেছে। এমন ধারা ছিল জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, ওষুধ ও রসায়ন, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক, সিরামিক, তথ্য ও প্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ এবং বিবিধ খাতে। বীমা খাতের ৪৮ কোম্পানির মধ্যে ৩০টিরই দর কমেছে। কিছুটা মিশ্রধারা ছিল প্রকৌশল ও বস্ত্র খাতে।

ইনডেক্স এগ্রোর দর নির্ধারণের অনুমতি :গতকাল ইনডেক্স এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ নামের একটি কোম্পানিকে বিএসইসি আইপিওর বুক বিল্ডিং প্রক্রিয়ায় শেয়ারদর নির্ধারণের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোম্পানিটি ৫০ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহ করতে চায়। এছাড়া সাউথইস্ট ব্যাংককে সাত বছর মেয়াদি ও ৫০০ কোটি টাকা আকারের সার্বডিনেট বন্ড ইস্যুর অনুমোদন দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশিত মূলধন পর্যাপ্ততা নিশ্চিতে এ অর্থ সংগ্রহ করবে ব্যাংকটি।

মন্তব্য করুন