দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এক দিনের লেনদেন আবারও এক হাজার তিনশ' কোটি টাকা ছাড়াল। এর আগে এত টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল প্রায় তিন বছর আগে ২০১৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর। ওইদিন কেনাবেচা হয়েছিল দেড় হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের শেয়ার। আস্থা সংকটে এরপর ক্রমাগত দরপতনের সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণও কমে যায়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নতুন নেতৃত্বের নানামুখী পদক্ষেপে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরতে শুরু করায় আবারও শেয়ারদর ও লেনদেন বাড়ছে।

তিন বছর পর আবার বড় লেনদেনের দিনে বাজার সূচকেও বড় উত্থান হয়েছে। প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৮২ পয়েন্ট বেড়ে ৫০৯৪ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। সূচক বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। গত ১০ সেপ্টেম্বর সূচকটির মনস্তাত্ত্বিক বাধা টপকানোর পর তালিকাভুক্ত অধিকাংশ শেয়ারের দর নতুন গতি পেয়েছে। বিশেষত ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমা খাতের অধিকাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে। তবে সূচক বৃদ্ধিতে সর্বাধিক ভূমিকা রেখেছে ব্যাংক খাতের সব কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধি।

ডিএসইর লেনদেন পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, গতকাল অন্তত ৪৫ কোম্পানির শেয়ার দিনের সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়। তবে লেনদেনের শেষ পর্যন্ত এ দরে স্থির ছিল ৩৬ শেয়ার, যেগুলোর বেশিরভাগই জেড ক্যাটাগরির এবং উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার নেই এমন কোম্পানির।

বাজার-সংশ্নিষ্টরা জানান, শনিবার এক আলোচনা সভায় বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম আবারও স্পষ্ট করে বলেন, যেসব কোম্পানির পরিচালকদের নূ্যনতম ২ শতাংশ শেয়ার নেই, তাদের পদ ছাড়তে হবে। তা না হলে অপসারণ করে প্রয়োজনে শূন্য পদে স্বতন্ত্র পরিচালক বসানো হবে। তিনি আরও জানান, আর্থিক সংকটে কিছু কোম্পানির কয়েকজন পরিচালক শেয়ার কিনতে কমিশনের নির্দেশনা পরিপালনে সময় চেয়েছেন। তাদের সময় দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার এ বক্তব্যের প্রভাব ছিল গতকালের লেনদেনে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দরবৃদ্ধির শীর্ষে থাকা কোম্পানির বেশিরভাগ রুগ্‌ণ বা স্বল্প মূলধনী বা যেসব কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী নূ্যনতম শেয়ার নেই। ডিএসইতে দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের প্রথম তিনটিসহ মোট পাঁচ কোম্পানি ছিল জেড ক্যাটাগরিভুক্ত। এগুলো হলো- গোল্ডেন সন, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশনস, মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ, জুট স্পিনার্স ও জিলবাংলা সুগার মিলস। পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, গতকাল ডিএসইতে সার্বিকভাবে যেখানে ৬৩ শতাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধির বিপরীতে প্রায় ৩০ শতাংশ শেয়ারের দর কমেছে, সেখানে জেডভুক্ত ৪২ শেয়ারের প্রায় ৮৬ শতাংশের দর বেড়েছে এবং কমেছে প্রায় ৫ শতাংশের। গড়ে এসব শেয়ারের বাজারদর বেড়েছে পৌনে ৫ শতাংশ। যেখানে 'এ' ক্যাটাগরিভুক্ত ২৬২ শেয়ার ও ফান্ডের বাজারদর মাত্র শূন্য দশমিক ০২ শতাংশ এবং 'বি' ক্যাটাগরিভুক্ত ৫৪ শেয়ারের গড় বাজারদর কমেছে শূন্য দশমিক ৪৩ শতাংশ।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সবচেয়ে দামি শেয়ারগুলোর বেশিরভাগের দর কমেছে আর সবচেয়ে সস্তা শেয়ারগুলোর দরবৃদ্ধির সংখ্যা বেশি। শেয়ারদর ৩৫০ টাকার বেশি এমন শীর্ষ ১০ কোম্পানির শেয়ারের মধ্যে গতকাল আটটিরই বাজারদর কমেছে। কিন্তু অভিহিত মূল্য ১০ টাকার নিচে কেনাবেচা হওয়া ৬৭ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে মাত্র ছয়টির বাজারদর কমেছে। অন্যদিকে গতকাল একক কোম্পানির লেনদেনের ক্ষেত্রে বেক্সিমকো ফার্মার প্রায় ৫৯ কোটি ও বেক্সিমকো লিমিটেডের ৪০ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।

খাতওয়ারি লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তুলনামূলকভাবে গতকাল ব্যাংক খাতের শেয়ারদর বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। খাতটির ৩০ কোম্পানির সবগুলোর বাজারদর বেড়েছে। গড়ে এ খাতের শেয়ারগুলোর দর বেড়েছে ৩ দশমিক ৯০ শতাংশ। আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের লেনদেন হওয়া ২২ শেয়ারের মধ্যে ১৮টির দর বেড়েছে, কমেছে একটির। গড়ে এ খাতের শেয়ারদর বেড়েছে ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ। বীমা খাতের ৪৮ কোম্পানির মধ্যে ২৮টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৬টির।

মন্তব্য করুন