বিনিয়োগকারীবান্ধব করার পাশাপাশি মিউচুয়াল ফান্ড ব্যবস্থাপনায় সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানিগুলোর কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। ওই বছরের ১২ ডিসেম্বর বিধিমালা সংশোধনের খসড়া কমিশন সভায় অনুমোদনও হয়। এরপর প্রায় পাঁচ বছর কেটে গেছে। এখনও জনমত জরিপের জন্য ওই খসড়া প্রকাশ হয়নি।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, একই কমিশন সভায় মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার সঙ্গে আইপিও বিধান সংশোধনে পাবলিক ইস্যু বিধিমালার খসড়াও অনুমোদন হয়েছিল। জনমত জরিপ শেষে ডিসেম্বর মাসেই পাবলিক ইস্যু বিধিমালা অনুমোদন এবং ৩১ ডিসেম্বর গেজেট প্রকাশ করা হয়। এরপর আরও দু'দফায় ২০১৭ সালের জুলাই এবং গত বছরের সেপ্টেম্বরে এটি সংশোধন করা হয়। অথচ মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা সংশোধনের খবর নেই। সংশ্নিষ্টদের অভিযোগ, মিউচুয়াল ফান্ড সংশ্নিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান দেনদরবারের কারণে বিধিমালা সংশোধনের প্রক্রিয়া থেমে যায়।

এদিকে নতুন কমিশন গত সপ্তাহে এক নির্দেশনায় মিউচুয়াল ফান্ডের আর্থিক প্রতিবেদন এবং পোর্টফোলিও প্রকাশে সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। এতে সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানিগুলো আরও কিছুটা জবাবদিহির আওতায় আসবে। তবে এ খাতের সার্বিক সমস্যা সমাধানে আরও কিছু পদক্ষেপ নেওয়া দরকার বলে মনে করেন সংশ্নিষ্টরা।

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে দক্ষতা থাকে না বলে যে কোনো দেশের ব্যক্তি শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের মিউচুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে উদ্বুদ্ধ করা হয়। একটি ফান্ডের তহবিলের আকার বড় হওয়ায় এবং পেশাদার বিনিয়োগ ব্যবস্থাপকের মাধ্যমে তা পরিচালিত হওয়ায় বিনিয়োগে ঝুঁকি কমে এবং মুনাফা পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এ কারণে সব দেশে মিউচুয়াল ফান্ড বেশ জনপ্রিয়। অথচ দেশে আশির দশকে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ সংস্থা আইসিবির মাধ্যমে মিউচুয়াল ফান্ডের যাত্রা শুরু হলেও দীর্ঘ চার দশকেও তা জনপ্রিয় হয়নি। দেশের শেয়ারবাজারের বাজার মূলধনে মিউচুয়াল ফান্ডের অংশ এখনও ১ শতাংশ নয়।

বিদ্যমান বিধানের দুর্বলতা কাটাতে আনা সংশোধনী প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, কোনো মিউচুয়াল ফান্ড থেকে বিনিয়োগকারীদের কখন লভ্যাংশ হিসেবে রি-ইনভেস্টমেন্ট বা পুনঃবিনিয়োগ দিতে পারবে, তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে। কোনো ফান্ডের ইউনিটপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) সেটির বাজারদরের তুলনায় কম হলে সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানি রি-ইনভেস্টমেন্ট আকারে লভ্যাংশ প্রস্তাব করতে পারবে না। এ ছাড়া লভ্যাংশ আকারে রি-ইনভেস্টমেন্ট অনুমোদন হলেও বিনিয়োগকারীকে নগদ লভ্যাংশ বা রি-ইনভেস্টমেন্ট বা উভয়ের মধ্যে যে কোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। তা ছাড়া প্রভিশনে ঘাটতি না থাকলে অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ প্রদানের সুযোগ থাকবে।

দেশে মিউচুয়াল ফান্ড জনপ্রিয় না হওয়ার বিষয়ে শেয়ারবাজার সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানিগুলোর অপেশাদার কার্যক্রমকে দায়ী করছেন খাত-সংশ্নিষ্ট ও বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অনারারি অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, গত ১০ বছরে মুনাফা তো দূরের বিষয়, মিউচুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগ তহবিল ছোট হয়েছে। অনেকগুলো লোকসান করেছে বছরের পর বছর। তালিকাভুক্ত ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর বেশিরভাগ কিছুদিন আগেও ৩ থেকে ৪ টাকায় কেনাবেচা হয়েছে। তিনি বলেন, সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানিগুলোর অপেশাদার আচরণেই এ খাত বড় হয়নি।

মন্তব্য করুন