শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির আলাদা দুই সিদ্ধান্তে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির একটির শেয়ারদর অনেক বেড়েছে, অপরটির অনেক কমেছে। একটি সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়েছে। এটির ক্রেতাও যেমন ছিল, তেমনি বিক্রেতাও ছিল অনেক। অন্যদিকে অপরটি সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন দরে থাকলেও লেনদেনের প্রায় পুরো সময়ে ক্রেতাশূন্য ছিল। কোম্পানি দুটির প্রথমটি মুন্নু সিরামিক, অপরটি জিকিউ বলপেন।

এদিকে সার্বিকভাবে শেয়ারবাজারে লেনদেনে কয়েক দিন ধরে যে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছিল, তা গতকালও অব্যাহত ছিল। বেশিরভাগ শেয়ারের দরবৃদ্ধি দিয়ে দিনের লেনদেন শুরু হলেও শেষ হয় বেশিরভাগের দর হারানোর মধ্য দিয়ে। প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ৩৫৪ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২১০টির বাজারদর কমেছে; দর বেড়েছে ১০৭টির। অপরিবর্তিত ছিল ৩৭টির দর। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১২ পয়েন্ট হারিয়ে ৫১০৪ পয়েন্টে নেমেছে। কেনাবেচা হয়েছে প্রায় এক হাজার ১৪ কোটি টাকা মূল্যের শেয়ার। দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইতে ৮৯ শেয়ার ও ফান্ডের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ১৪৭টির দর কমেছে। লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি টাকার শেয়ার।

কারসাজি করে শেয়ারদর বাড়ানোর অভিযোগ বিষয়ে তদন্ত শুরুর পর থেকে গত এক বছরেরও বেশি সময় মুন্নু সিরামিকের শেয়ার বাধ্যতামূলক স্পট মার্কেটে কেনাবেচার আদেশ দেয় বিএসইসি। অর্থাৎ এতদিন শেয়ারটি কেনা গেছে শুধু নগদ মূল্যে। এ বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার শেয়ারটি পাবলিক মার্কেটে কেনাবেচা হয়। পুনরায় পাবলিক মার্কেটে আসার দিনেই মুন্নু সিরামিকের শেয়ারদর তরতর করে বাড়তে শুরু করে। গতকাল শেয়ারটি সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে (প্রায় ১০ শতাংশ বেশি) কেনাবেচা হয়েছে; ছিল লেনদেন ও দরবৃদ্ধির একেবারে শীর্ষে। এ ধারা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। সর্বশেষ কেনাবেচা হয়েছে ১৬০ টাকা দরে। এটির পাশাপাশি গতকাল বেশি দর বেড়েছে পূরবী জেনারেল, রিপাবলিক ও নিটল ইন্স্যুরেন্স এবং জিএসপি ফাইন্যান্সের। এগুলোর দর প্রায় ১০ শতাংশ হারে বেড়েছে।

ঠিক বিপরীত ঘটনা ঘটেছে অপর তালিকাভুক্ত কোম্পানি জিকিউ বলপেনের ক্ষেত্রে। কারসাজি করে কয়েক ব্যক্তি শেয়ারটির দর গত দু'মাসে প্রায় চার গুণ করার পর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এ খবর প্রকাশের পর গতকাল শেয়ারটির ব্যাপক দরপতন হয়েছে। কেনাবেচা হয়েছে সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন দরে (প্রায় ১০ শতাংশ কমে)। দর কমলেও গতকাল এ শেয়ারের ক্রেতা সংকট ছিল। লেনদেনের শুরুতে সাড়ে ৪ লাখ শেয়ার বিক্রির আদেশ থাকলেও শেষ পর্যন্ত কেনাবেচা হয়েছে ২৩ হাজার ৩৬টি শেয়ার। আগের দিনের ২৪০ টাকা ৩০ পয়সা থেকে শেয়ারটির দর নেমে এসেছে ২১৯ টাকা ৩০ পয়সায়। ছিল দরপতনের শীর্ষে।

মন্তব্য করুন