পাঁচ বছর বা এর বেশি সময় ধরে জেড ক্যাটাগরিতে আটকে থাকা কোম্পানি চাইলে স্বেচ্ছায় শেয়ারবাজার থেকে তালিকাচ্যুতির আবেদন করতে পারবে। একই সঙ্গে ওভার দ্য কাউন্টার বা ওটিসিতে থাকা কোম্পানি এবং তালিকাভুক্ত ডিবেঞ্চারও এমন সুযোগ পাবে। এমন পদক্ষেপের ক্ষেত্রে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কিনতে হবে কোম্পানির উদ্যোক্তা, পরিচালক বা প্রমোটারদের। এই দর অভিহিত মূল্যের কম হতে পারবে না। তবে শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য অথবা অভিহিত মূল্যের থেকে যেটি বেশি- এমন দর প্রস্তাব করা যাবে।

এমন আইনি বাধ্যবাধকতা রেখে শেয়ারবাজার থেকে স্বেচ্ছায় তালিকাচ্যুতির বিধান চূড়ান্ত করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। আগামী সপ্তাহের শুরুতে এ বিষয়ে আদেশ দেওয়ার প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

নতুন এ বিধানে আরও বলা হয়েছে, কোম্পানির উদ্যোক্তা বা পরিচালকরা স্বেচ্ছায় তালিকাচ্যুতির সিদ্ধান্ত নিলেও কোম্পানি-সংশ্নিষ্টদের বাইরে শেয়ারধারীদের অন্তত ৭৫ শতাংশের সম্মতি লাগবে। অন্য শেয়ারধারীরা পর্ষদের সিদ্ধান্তে সম্মতি দিলে তবেই তালিকাচ্যুত হবে সংশ্নিষ্ট কোম্পানি। এ জন্য একটি প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বিধানে।

বিদ্যমান আইন ও বিধিমালায় কোম্পানির তালিকাভুক্তির আইন সুনির্দিষ্ট করা থাকলেও কোনো কোম্পানির স্বেচ্ছায় তালিকাচ্যুত (ডিলিস্ট) হওয়ার সুস্পষ্ট বিধান নেই। এমন প্রেক্ষাপটে নতুন বিধান করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেক্সিমকো সিনথেটিক্স তালিকাচ্যুতির আবেদন করেছে।

বাজার-সংশ্নিষ্টরা জানান, বিশ্বের বিভিন্ন শেয়ারবাজারে স্বেচ্ছায় তালিকাচ্যুতির বিধান আছে। তবে এ ক্ষেত্রে কোন দরে উদ্যোক্তা, পরিচালক বা প্রমোটাররা সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার কিনে নিচ্ছে, তা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আন্তর্জাতিকভাবে সবচেয়ে ব্যবহূত নিয়ম হলো- স্বেচ্ছায় তালিকাচ্যুত হতে চাওয়া কোম্পানিটির শেয়ার সর্বশেষ এক বছরের ভারিত গড় (ওয়েটেড এভারেজ) দরে শেয়ার কিনতে হয়।

বিএসইসির চেয়ারম্যানসহ শীর্ষ পদে নতুন নেতৃত্ব আসার পর সংস্থাটি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর করে বাজারে আস্থা ফেরাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে যেসব কোম্পানি বছরের পর বছর লোকসান করছে বা শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, সেগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে। ইতোমধ্যে বন্ধ কোম্পানির পর্ষদে সঠিক নেতৃত্ব এবং ব্যবস্থাপনা বিভাগে দক্ষ ও যোগ্য লোক বসিয়ে মুনাফায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য নতুন বিধান যুক্ত করে আদেশ জারি করা হয়েছে। এর বাইরে যেসব কোম্পানির মুনাফায় আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ সেগুলোকে তালিকাচ্যুত করার পরিকল্পনাও নিচ্ছে সংস্থাটি বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, স্বেচ্ছায় তালিকাচ্যুতির ক্ষেত্রে কোম্পানিটির পর্ষদকে প্রথমে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং বিএসইসির কাছে প্রাথমিক আবেদন করতে হবে। তবে এ সিদ্ধান্ত শেয়ারহোল্ডারদের আগাম জানাতে হবে না। কমিশন আবেদন পাওয়ার পর সম্মতি দিলে তা মূল্য সংবেদনশীল তথ্য হিসেবে প্রকাশ করবে কোম্পানি। এরপর তালিকাচ্যুতির আগে কোম্পানি সংশ্নিষ্টদের বাইরের শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার কিনে নিতে স্টক এক্সচেঞ্জ বা মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো থেকে এক প্রতিষ্ঠানকে অ্যারেঞ্জার হিসেবে নিয়োগ দেবে।

কমিশন ডিলিস্টিংয়ের প্রাথমিক আবেদন অনুমোদন করলে অ্যারেঞ্জারের মাধ্যমে কোম্পানিটি উদ্যোক্তা বা পরিচালক বা প্রমোটারদের পক্ষে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের কাছে নির্দিষ্ট দরে শেয়ার কেনার প্রস্তাব পাঠাবে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অন্তত ৭৫ শতাংশ ওই প্রস্তাব গ্রহণ করলে কোম্পানিটি এজিএম আহ্বান করবে। এজিএমেও ৭৫ শতাংশ শেয়ারহোল্ডার সম্মতি দিলে, পুনরায় ওই সম্মতির তথ্য জানিয়ে বিএসইসির কাছে তালিকাচ্যুতির জন্য পুনরায় আবেদন করতে হবে বলে বিধানে বলা হয়েছে। এরপর কমিশন আবেদন গ্রহণ করলে, তা স্টক এক্সচেঞ্জকে জানাবে এবং ওই কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বন্ধ করার নির্দেশ দেবে। পরের ধাপে কোম্পানিটি অ্যারেঞ্জারের মাধ্যমে দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে শেয়ার হস্তান্তরের অর্থ জমা ও শেয়ারহোল্ডারদের পরিশোধ করবে।

মন্তব্য করুন