২১ মাসেও জমি বন্দোবস্ত প্রক্রিয়া শেষ হয়নি

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

পঙ্কজ দে, সুনামগঞ্জ

আমদানি-রফতানির উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা সত্ত্বেও সুনামগঞ্জের ডলুরা শুল্ক্কবন্দর চালু হতে বিলম্ব হচ্ছে। প্রায় ২১ মাসেও শুল্ক্কবন্দরের জমি বন্দোবস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেনি সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ কারণে অন্যান্য প্রক্রিয়াও থেমে আছে।

গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ডলুরা শুল্ক্কবন্দরের জন্য ১৫ একর জমি চেয়ে ভ্যাট ও কাস্টমসের কমিশনার অফিস সিলেট থেকে ইন্টারন্যাশনাল রিসোর্চ ডিপার্টমেন্টে (আইআরডি) চিঠি পাঠানো হয়। এই প্রক্রিয়ায় গত বছরের ৬ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর জেলা প্রশাসকের পক্ষে সিলেট ভ্যাট ও কাস্টমসের কমিশানরকে চিঠি দিয়ে জানান, ডলুরা শুল্ক্কবন্দরের জন্য নির্ধারণ হওয়া জমি সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত। জমি বন্দোবস্ত নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

সর্বশেষ গত ১১ জুন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিস ডলুরা শুল্ক্কবন্দরের জন্য জেল নম্বর ৪৫-এর ১ ও ২ নম্বর দাগে ১০ একর অকৃষি জমি ২ কোটি ৪৭ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করে বন্দোবস্ত দেওয়া যেতে পারে বলে প্রস্তাব পাঠায়। এই প্রস্তাব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখায়ই এখনও রয়েছে।

সিলেট ভ্যাট ও কাস্টমস কমিশনার অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী তুহিন আহমদ বলেন, 'ডলুরা শুল্ক্কবন্দরের জন্য জমি বন্দোবস্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় অন্য কাজ এগোচ্ছে না।'

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সফিউল আলম বলেন, 'সদর উপজেলা ভূমি অফিস থেকে ডলুরা শুল্ক্কবন্দরের জমি বন্দোবস্ত প্রদানের প্রস্তাব পাওয়া গেছে। আগামী সপ্তাহে তদন্ত করে এ সংক্রান্ত রিপোর্ট সংশ্নিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হবে।

সুনামগঞ্জের ডলুরায় ১৯৯৯ সালে একবার পরীক্ষামূলকভাবে এক বছরের জন্য শুল্ক্কবন্দর চালু করতে দুই দেশের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু সীমান্তের ওপাশে আড়াই কিলোমিটার সড়ক নির্মিত না হওয়ায় আমদানি-রফতানি শুরু করা হয়নি।

সুনামগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীর পাড় হয়ে ১২ কিলোমিটার দূরেই ভারত সীমান্ত। সীমান্ত পার হলেই ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বালাট জেলার সীমান্ত। ওপারের সেভেন সিস্টারসের সঙ্গে বালাটের রয়েছে উন্নত সড়ক যোগাযোগ। জানা গেছে, ভারতের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ডলুরা-বালাট শুল্ক্কবন্দর চালু করার জন্য অনুমোদনও দিয়ে রেখেছে।