নবনির্মিত সিলেট কারাগারে বন্দি স্থানান্তর শুরু আজ

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০১৯

সিলেট ব্যুরো

নবনির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি স্থানান্তর কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আজ থেকে। এ কারণে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক বন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ কার্যক্রম তিন দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত কোনো বন্দির সঙ্গে দেখা করা যাবে না বলে এক নোটিশে জানায় কারা কর্তৃপক্ষ।

গত ৬ জানুয়ারি এক সভায় ধোপাদীঘিরপাড় পুরাতন কারাগার থেকে বাদাঘাটে নবনির্মিত কারাগারে বন্দি স্থানান্তর শুরুর সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে কারারক্ষীসহ কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন কারাগারে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছেন। বন্দিদের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে নবনির্মিত কেন্দ্রীয় কারাগারকে। বর্তমানে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দির সংখ্যা ২ হাজার ৩শ'। এর মধ্যে কয়েদি ৫শ' এবং হাজতি ১ হাজার ৮শ'।

১৭৮৯ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ শাসকের প্রতিনিধি সিলেটের কালেক্টর জন উইলসন নগরীর ধোপাদীঘিরপাড়ে ২৪ দশমিক ৬৭ একর জায়গায় নির্মাণ করেন সিলেট কারাগার। তখন সিলেট জেলার জনসংখ্যা ছিল ৭৫ হাজার ৩৮২ জন। সময়ের ব্যবধানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি বন্দির সংখ্যা বাড়তে থাকে। কারাগার নির্মাণের ২২৯ বছর পর নগরীর বাইরে বাদাঘাট এলাকায় কারাগার স্থানান্তরের উদ্যোগ নেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তার প্রচেষ্টায় ২০১০ সালে কারাগার স্থানান্তর প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) পাস হয়। ২০১১ সালের ১১ আগস্ট তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন আনুষ্ঠানিকভাবে এর ভিত্তি স্থাপন করেন। গত বছরের ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন ২২৬ কোটি ৯৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত কারগারটি।

জানা গেছে, শহরতলির কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদাঘাটের এই কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ৭টি ভবন। এর মধ্যে রয়েছে পুরুষ বন্দিদের জন্য ৬ তলাবিশিষ্ট ৪টি এবং নারী বন্দিদের জন্য চার ও দুই তলাবিশিষ্ট ৩টি ভবন। এ ছাড়া রয়েছে ৫টি হাসপাতাল, রান্নার জন্য এক তলাবিশিষ্ট ৫টি ভবন, খাবার মজুদের জন্য ১ তলাবিশিষ্ট ৪টি ভবন। রয়েছে একটি দোতলা রেস্ট হাউস, ৪ তলাবিশিষ্ট ডে-কেয়ার, মসজিদ, বিদ্যালয় ও লাইব্রেরি।

এ ব্যাপারে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আবদুল জলিল সমকালকে বলেন, 'আমরা কারাগারের কার্যক্রম স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু করেছি।'