৪৮ বছরেও পাকা সেতু হয়নি খাসিয়ামারা নদীতে 

প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

শাহ মো. আখতারুজ্জামান, ছাতক (সুনামগঞ্জ)

ছাতকের মাঠগাঁও ও ভাঙ্গাপাড়া গ্রামের মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে খাসিয়ামারা নদী। সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে এ নদীর অবস্থান। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পেরিয়ে গেলেও নদীর ওপর একটি পাকা সেতু নির্মাণ করা হয়নি। ফলে প্রায় ৩শ' ফুট দৈর্ঘ্যের বাঁশের সেতু দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে এলাকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে। বছরের পর বছর ধরে নদীর ওপর একটি পাকা সেতু নির্মাণে আবেদন-নিবেদন করেও সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসছে না বলে আক্ষেপ এলাকাবাসীর।

খাসিয়ামারা নদীর ওপর দিয়ে প্রতিদিন দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর, নরসিংপুর, বাংলাবাজার, বোগলা, সুরমা এবং ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ও ইসলামপুর ইউনিয়নের লাখো মানুষ যাতায়াত করে থাকে।  প্রায় ১৫ বছর ধরে এলাকাবাসী বাঁশের সেতু ব্যবহার করে আসছে। এই সেতু দিয়ে সাইকেল, রিকশা, মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাও চলাচল করে। 

এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বছরের প্রায় ৮ মাস দুটি উপজেলার মানুষ বাঁশের সেতু দিয়ে যাতায়াত করেন। তবে বর্ষা মৌসুমের চার মাস প্রবল স্রোতের কারণে বাঁশের সেতু টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয় না। ঝড়বাদলের দিনে বাধ্য হয়েই লোকজন নৌকায় পারাপার হয়। স্থানীয় শিক্ষার্থী সাফিকুর রহমান ও শাহানা বেগম বলেন, বর্ষা মৌসুমে ভোগান্তি অনেকগুণ বেড়ে যায়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার হতে হয়। নদীর ওপর একটি পাকা সেতু নির্মিত হলে এলাকায় ব্যবসার প্রসার হবে, মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হবে,

ভোগান্তি কমবে।

লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমিরুল হক বলেন, বাঁশের সেতু হওয়ায় প্রতি বছরই নতুন করে এই সেতু তৈরি করতে হয় এলাকাবাসীকে। ফলে একদিকে অর্থের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে বড় যান চলতে না পারায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও ধীর এই এলাকায়। একবার নদীতে পাকা সেতু নির্মাণের জন্য সার্ভে করা হলেও পরে আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রকৌশলী হরজিৎ সরকার বলেন, খাসিয়ামারা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে ঢাকা থেকে সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ সার্ভে করেছে। তবে বিষয়টি বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে তা তিনি বলতে পারেননি। সুনামগঞ্জ জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল আহমদ বলেন, এখানে সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে এলজিইডি কর্তৃপক্ষের। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।