অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন চলছেই

প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

কাওছার আহমদ, কানাইঘাট (সিলেট)

কিছুতেই যেন থামছে না নদীর তীর ও ফসলি জমি কেটে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন। স্থানীয় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পাথরখেকো চক্র অর্থ ও প্রভাববলে দিনে-রাতে নদীর তীরে বড় বড় গর্ত করে পাথর উত্তোলন করে চলেছে। এতে নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি, হাটবাজার, রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদ হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও কোনো কাজ হচ্ছে না।

সিলেটের জাফলং, লালাখাল, বিছনাকান্দি ও শ্রীপুরের মতো আরেকটি পর্যটন কেন্দ্র হলো 'লোভাছড়া'। লোভাছড়ার প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রয়েছে পাথর কোয়ারি। লোভা নদীর প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় বাঁধ দিয়ে বড় বড় গর্ত করে পাথর উত্তোলন করছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এতে নদী পারাপারে দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার শিকার হতে হয় যাত্রীদের। এ ছাড়া ফসলি জমি কেটেও চলছে পাথর উত্তোলনের মহোৎসব। ফলে কমে যাচ্ছে ফসলের উৎপাদন।

সরেজমিন দেখা যায়, লোভা নদীর ভালুকমারার চর, সাউদগ্রাম, বাংলো টিলা, কান্দলা, তেরহালি, বাজেখেল ও মেছারচর এলাকায় চলছে এক্সক্যাভেটর ও শ্যালো মেশিনের সাহায্যে ৫০-১০০ ফুট গর্ত করে পাথর উত্তোলন। এসব কোয়ারিতে পাথর উত্তোলনের সময় মাটিচাপা পড়ে অনেক শ্রমিক আহত, নিহত হন। তবে ব্যবসায়ীরা হতাহতের ঘটনাগুলো ধামাচাপা দিয়ে থাকে। গত বছর অন্তত ১০ জন শ্রমিক মারা যান এসব কোয়ারিতে। আহত হন শতাধিক।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, নদীর তীর কেটে ফসলি জমিতে বড় বড় গর্ত করছেন স্থানীয় ১নং লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তমিজ উদ্দিন মেম্বার, ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি হাজি বিলাল আহমদ, গিয়াস উদ্দিন, কানাইঘাট থানা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলমসহ অনেকে।

এলাকাবাসী জানান, গত পাঁচ বছরে লোভা নদীর দু'তীরের প্রায় দুই একর করে ফসলি জমি কেটে ফেলা হয়েছে। তমিজ উদ্দিন মেম্বার গর্ত করার জন্য ১৪টি এক্সক্যাভেটর দিয়ে কাজ করছেন। ভালুকমারার চরে ফখরুল আলম, মুহিবুর রহমানসহ দুই শতাধিক ব্যবসায়ীর গর্ত রয়েছে। এই পাথর উত্তোলন নিয়ে প্রভাবশালীদের নিজেদের মধ্যেও মামলা-হামলা চলে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় পাথর ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিন, ফখরুল আলম, তমিজ উদ্দিন মেম্বার ও বিলাল হাজিসহ অনেকের সঙ্গে আলাপ হয়। তারা বলেন, কোয়ারি এলাকায় তাদের নামে যে অপপ্রচার চলছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সঠিক উপায়ে তারা পাথর উত্তোলন করছেন।

সিলেট জেলা বারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মামুন রশীদ বলেন, লোভা অঞ্চলের সৌন্দর্য রক্ষায় এবং সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচাতে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজপতিদেরও এগিয়ে আসতে হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা বলেন, অবৈধ উপায়ে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। লোভার সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনসাধারণকেও এগিয়ে আসতে হবে।