বিশ্বম্ভরপুরে সেতু ভেঙে পড়ায় ৫ লাখ মানুষের দুর্ভোগ

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

পঙ্কজ দে, সুনামগঞ্জ

বিশ্বম্ভরপুরে সেতু ভেঙে পড়ায় ৫ লাখ মানুষের দুর্ভোগ

বিশ্বম্ভরপুরে ভেঙে পড়া সেতুর পাশ দিয়ে পায়ে হাঁটার বিকল্প পথ নির্মাণ করা হচ্ছে সমকাল

সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর সড়কের পলাশ বাজারের পার্শ্ববর্তী পুলেরঘাট এলাকায় বেইলি ব্রিজ ভেঙে পড়ায় যোগাযোগ বিপর্যয়ে পড়েছেন কমপক্ষে পাঁচ লাখ মানুষ। সীমান্তবর্তী এই উপজেলাগুলোর বাসিন্দাদের একাধিক যানবাহন পরিবর্তন করে গন্তব্যে পৌঁছতে হচ্ছে। ওই এলাকার উন্নয়ন কাজের ঠিকাদারসহ ব্যবসায়ীরা মালপত্র পৌঁছাতে বিপাকে পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার তাহিরপুরে নির্মিতব্য একটি সেতুর কাজের লোহার মালপত্র নিয়ে ঢাকা থেকে আসার সময় মালপত্র বোঝাই ট্রাক বেইলি ব্রিজ ভেঙে খাদে পড়ে যায়। এ সময় দু'জন নিহত এবং পাঁচজন আহত হন। সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর সড়কের রণবিদ্যার খালের উপরের পুরনো এই বেইলি ব্রিজ ধসে যাওয়ার পর থেকে এই সড়কে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ঘটনায় এই দুই উপজেলার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়েছেন। একই সঙ্গে মেঘালয়ের পাদদেশের বিখ্যাত জলাভূমি রামসার সাইট টাঙ্গুয়া, তাহিরপুর সীমান্তের নীলাদ্রী লেক, পাহাড়ি নদী যাদুকাটা ও এই উপজেলার সীমান্তের শিমুল বাগান দেখতে আসা পর্যটকের উপস্থিতি কমেছে। যারা আসছেন, তারা পড়ছেন যাতায়াত ভোগান্তিতে।

সিলেটের জল্লারপাড় এলাকার ঝুমা সেনাপতি সপরিবারে এসেছিলেন তাহিরপুর সীমান্তের শিমুলবাগান এলাকায় বেড়াতে। যানবাহন নিয়ে সরাসরি যেতে না পারায় সেখানে যাওয়া হয়নি তাদের।

যাদুকাটা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের কাজের শ্রমিক মিলন মিয়া বলেন, 'মালপত্র পৌঁছাতে সমস্যা হওয়ায় আমরা সেখানে কাজ করতে পারছি না।'

বিশ্বম্ভরপুর বাজারের দোকানি লিপন বর্মণ বলেন, 'একদিন যান চলাচল বন্ধ থাকায় বাজারে অনেক মালপত্র পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েকদিন এভাবে থাকলে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাবে।'

সেতুটি দ্রুত মেরামতের দাবি জানিয়ে স্থানীয় পলাশ ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কাইয়ুম বলেন, 'জেলা শহরসহ সারাদেশের একমাত্র এই যোগাযোগ সড়ক দিয়ে এভাবে যান চলাচল বন্ধ থাকলে শুধু মালপত্র নয়, অসুস্থ রোগী চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতেও সমস্যায় পড়বে মানুষ।' পথচারীদের নিরাপত্তার জন্য সেতুর পাশে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে জানালেন বিশ্বম্ভরপুর থানার এসআই মোহাম্মদ আলী। মোহাম্মদ আলী বলেন, 'সেতুর মেরামত দ্রুত সম্পন্ন করা প্রয়োজন।'

সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী অমিয় চক্রবর্তী বলেন, 'সড়ক ও জনপথ বিভাগ এই বেইলি ব্রিজ মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছে। আপাতত ছোট যানবাহন চলাচলের জন্য একটি বিকল্প সড়ক করে দেওয়া হবে এবং ৭-৮ দিনের মধ্যেই বেইলি সেতুর কাজ শেষ করা হবে।'