ডেকে নিয়ে দুটি চোখ নষ্ট করল সন্ত্রাসীরা

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

গোলাপগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি

গোলাপগঞ্জে জায়েদ আহমদ নামে এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে চুন দিয়ে দুই চোখ নষ্ট করে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। গত শনিবার বাঘা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে জায়েদকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার মূল সন্দেহভাজন বাঘা ইউনিয়নের রুস্তমপুর গ্রামের ইছাক আলীর ছেলে রাইয়ূম ওরফে ছানু মিয়াকে রোববার তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বাঘা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের বাছই মিয়ার ছেলে জায়েদ আহমদ ও সহির উদ্দিনের ছেলে জুবায়ের আহমদ হুন্ডি ব্যবসায়ী ছানু মিয়ার দলে কাজ করত। গত কয়েক দিন থেকে হুন্ডির টাকা নিয়ে ছানুর সঙ্গে জায়েদের মনোমালিন্য চলছিল। এরই জের ধরে গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় ছানু মিয়া জরুরি কথা আছে বলে জায়েদ ও জুবায়েরকে তার বাড়িতে ডেকে নেয়। সেখানে যাওয়ার পর তাদের সঙ্গে প্রথমে ভালো আচরণ করা হয়। রাত ১১টার দিকে অজ্ঞাত ৭-৮ জন ব্যক্তি ছানুর বাড়িতে আসে। এ সময় ছানু এবং তার বড় ভাই হাছন আলী ও ভাতিজা সাইদুল ইসলামসহ ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা জায়েদকে মেরে ফেলতে হাত-পা বেঁধে রড, জিআই পাইপ দিয়ে মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে জায়েদকে সুরমা নদীতে ফেলে দিতে তার চোখে চুন দিয়ে বস্তাবন্দি করার চেষ্টা করে। এ সময় তার আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে ছানুসহ সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে অজ্ঞান অবস্থায় আহত জায়েদকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসার পর জায়েদের জ্ঞান ফিরলেও দুটি চোখে আর আলো জ্বলেনি। তার চোখে চুন জমে থাকায় তা নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। এ ঘটনায় রোববার জায়েদের বাবা বাছই মিয়া বাদী হয়ে গ্রেফতারকৃত ছানু মিয়াকে প্রধান করে তার বড় ভাই হাছন আলী, ভাতিজা সাইদুল ইসলামসহ অজ্ঞাত ৭-৮ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ওসি একেএম ফজলুল হক শিবলী বলেন, আহত জায়েদের দুটি চোখই নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।