ট্রেনের যাত্রী বেড়েছে ছাতক-সিলেট রেলপথে। তবে বাড়েনি যাত্রীসেবার মান। রেলওয়ে বিভাগের সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এক সময়ের লাভজনক স্টেশনটি এখন লোকসানী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। রেললাইনের পুরো সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হলে আবারও রেলস্টেশনটি লাভের মুখ দেখবে- এমনটাই মনে করেন এলাকাবাসী।

১৯৫৪ সালে ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথটি স্থাপন করা হয় শিল্পনগরী ছাতকে। ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত এই রেলপথে যাত্রীসেবার মান ছিল ভালো। ছাতক বাজার রেলস্টেশন থেকে চারটি পণ্য পরিবহন ট্রেন ও প্রতিদিন চার বেলা যাত্রীবাহী ট্রেন চালু করা হয়েছিল। তবে এর পর থেকেই নেমে যায় সেবার মান। অব্যবস্থাপনা, লোকবল ও জবাবদিহির অভাবেই এই পথে যাত্রীসেবার মান নিম্নমুখী।

স্টেশনটিতে সালটিং স্টাফ নয়জনের মধ্যে আছেন মাত্র দু'জন। পোর্টার ও পিয়ন পদও শূন্য রয়েছে। বিশ্রামাগারের দেখাশোনার দায়িত্বে নারী শ্রমিক নেই বেশ কয়েক বছর ধরে। রেলওয়ে স্টেশনের রানিং রুমের ৩টি, টেক্সার স্টাফের ৫টি, মালগুদামের ৩টি, টালি ক্লার্ক ২টি, সিলম্যানের পদ বছরের পর বছর ধরেই শূন্য রয়েছে। পোডার পদের সাইফুল ইসলাম টিকিট বুকিং ক্লার্কের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রয়াত সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নির্দেশে স্টেশনের মালপত্র ও গাড়ি দেখার দায়িত্বে ১০ জনকে ছাতক স্টেশনে পোস্টিং দেওয়ার কথা বলা হলেও আজও তাদের পদায়ন হয়নি।

বর্তমানে বেশ কয়েক মাস ধরে ছাতক বাজার রেলওয়ে স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার আবদুল মতিন ভূঁইয়া বিভাগীয় শহর সিলেটে অবস্থান করছেন। তিনি তার নিজ কর্মস্থল ছাতক না এসে সিলেটে বসেই নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। সহকারী স্টেশন মাস্টারও নেই ছাতক বাজার স্টেশনে। একজন পোর্টার স্টেশনের সার্বিক দায়িত্ব পালন করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের এক কর্মচারী বলেন, মাস্টার সাহেব রেলওয়ে শ্রমিক লীগ শাখার নেতা বলেই বাসায় বসে নিয়মিত মাসের পর মাস নিয়মিত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে বেতন উত্তোলন করছেন। ছাতক বাজার রেলস্টেশনের মাস্টারের কার্যালয়ে একাধিকবার গিয়েও আবদুল মতিন ভূঁইয়াকে পাওয়া যায়নি।

তবে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার মূল দায়িত্ব আফজালাবাদ স্টেশনে। ছাতক বাজার স্টেশনের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তাকে। তাছাড়া দুর্ঘটনায় পড়ে দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন তিনি।

পৌর এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী ড. আফসার উদ্দিন বলেন, অল্প খরচে ও নিরাপদে বিভাগীয় শহর সিলেট যাতায়াতে রেলপথের জনবল বৃদ্ধি একান্ত প্রয়োজন। রেললাইন সংস্কারের পাশাপাশি ট্রেনের বগি বৃদ্ধি ও স্টেশনের আধুনিকায়ন করা হলে ছাতক-সিলেট রেলপথে ট্রেনের যাত্রীর অভাব হবে না।

মন্তব্য করুন