ঈদ সামনে রেখে সক্রিয় বোমা মেশিন চক্র

প্রকাশ: ২৩ মে ২০১৯

মুকিত রহমানী, সিলেট

সিলেটের সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জে পাথর কোয়ারিতে গেল কয়েক বছর ধরে প্রকাশ্যে দেশের বৃহৎ পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকলেও গোপনে চলছে বোমা মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন। সম্প্রতি ঘন ঘন অভিযানের ফলে রেলওয়ের বাংকার এলাকা, লিলাই বাজার, দয়ারবাজার, গুচ্ছগ্রাম ও কালিবাড়ি এলাকায় বোমা মেশিন তুলে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঈদ সামনে রেখে অধিক অর্থ উপার্জনের নেশায় সেই বোমা মেশিন চক্র আবার সক্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে তারা ভোলাগঞ্জ রোপওয়ের সংরক্ষিত (বাংকার) এলাকায় বোমা মেশিন নামিয়ে পাথর উত্তোলন শুরু করেছে। এজন্য দিনের পরিবর্তে রাতের আঁধারকে বেছে নিয়েছে পাথরখেকোরা।

এদিকে শনিবার রাতে থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে একজনকে আটক ও চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মামলায় আলোচিত কাজল সিং রয়েছেন। যিনি গত কয়েক বছর ধরে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকায় ব্যক্তি মালিকানা জায়গা ছাড়াও সরকারি জায়গা এমনকি সংরক্ষিত এলাকা থেকে দীর্ঘদিন ধরে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের ফলে বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন ভোলাগঞ্জ রোপওয়ের বিভিন্ন স্থাপনা ইতিমধ্যে ধ্বংস হয়ে গেছে। ঐতিহ্যের স্মারক ভোলাগঞ্জ রোপওয়ের সংরক্ষিত এলাকায় যত্রতত্র পাথর উত্তোলনের ফলে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে স্থাপনাটির বেশ কিছু এলাকা। রোপওয়ের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ও সুরক্ষার দায়িত্ব রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) হাতে থাকলেও তারা নির্বিকার। অভিযোগ রয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মদদেই বোমা মেশিন চালানো হয়।

দীর্ঘদিন ধরে নতুন বালুচরের বাসিন্দা কাজল সিংহ, উত্তর কলাবাড়ি গ্রামের শাহাব উদ্দিন, আলিম উদ্দিন, বিলাল আহমদ, রাসেল মিয়া, বিশ্বম্ভরপুর শিলডুয়ার বাসিন্দা বর্তমানে উত্তর কলাবাড়িতে বসবাসকারী তাজুল ইসলাম ওরফে পরিবেশ মোল্লাসহ ১৫-১৬ জনের বিরুদ্ধে বোমা মেশিন ব্যবহার এবং এ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। সংরক্ষিত এলাকায় আবার বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন শুরু হয়েছে- এমন সংবাদ পেয়ে শনিবার রাত সাড়ে ৩টা থেকে সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত অভিযান চালায় উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন। ধ্বংস করা হয় তিনটি মেশিন এবং আটক করা হয় নতুন বালুচর গ্রামের সিকন্দর আলীর ছেলে ইজবর আলীকে। এ ঘটনায় আলোচিত কাজল সিংহসহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন এসআই মিজানুর রহমান।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি তাজুল ইসলাম সমকালকে জানিয়েছেন, সংরক্ষিত এলাকায় পরিবেশ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মূল হোতাদের গ্রেফতার না করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রত্যেককে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। যাদের বোমা মেশিন রয়েছে তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। বুধবার অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন থেকে বিরত থাকতে ভোলাগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করা হয়েছে বলে জানান তিনি।