সেতু-সড়ক হওয়ার ৫ বছর পরও বাস চলে না

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০১৯

পঙ্কজ দে, সুনামগঞ্জ

সেতু হওয়ার পাঁচ বছর পরও সুনামগঞ্জের তিনটি উপজেলা সদরে যাত্রীবাহী বাস চালু হয়নি। এ কারণে ওই তিন উপজেলার বাসিন্দাসহ সীমান্ত উপজেলা তাহিরপুরের পর্যটকদের ওখানে যেতে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি জেলার তাহিরপুর উপজেলা, জামালগঞ্জ ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাকে জেলা শহর সুনামগঞ্জের সঙ্গে সড়কের মাধ্যমে যুক্ত করতে ২০১৭ সালে সুরমা নদীর ওপর নির্মিত হয় আব্দুজ জহুর সেতু। সেতুর ওপারে সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর, সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর এবং সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়ক আগেই হয়েছে। এই সড়কগুলোতে সেতু হওয়ার পাঁচ বছর পরও যাত্রীবাহী বাস চলছে না। সেতু পার হয়ে কমপক্ষে ৭ লাখ মানুষকে যাতায়াত করতে হয়। তাদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুত বাস চলাচল চালু করার দাবি জানিয়েছেন ওই তিন উপজেলার মানুষ।

সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুরের দূরত্ব ১৫ কিলোমিটার। সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাত্রীদের এ সড়কে ভাড়া গুনতে হয় ৫০ টাকা, একটু এগিয়ে সুনামগঞ্জ শহরে গেলে ৬০ টাকা। সুনামগঞ্জ-তাহিরপুরের দূরত্ব ৩৪ কিলোমিটার, অটোরিকশায় যাত্রীদের ভাড়া গুনতে হয় ১২০ টাকা। ঠিক একইভাবে জামালগঞ্জ যেতে হলে সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজারের (জামালগঞ্জের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীর পূর্বপাড়ের বড় বাজার) দূরত্ব ২৩ কিলোমিটার, অটোরিকশাকে ভাড়া দিতে হয় ৬০ টাকা। অথচ সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা সদর শান্তিগঞ্জের দূরত্বও ১৫ কিলোমিটার। শান্তিগঞ্জে অটোরিকশায় গেলে ২৫ টাকা ভাড়া দিতে হয়। বাসে ২০ টাকা। এক জেলায় যানবাহনে এমন ভিন্ন ভিন্ন অর্থ আদায় অন্য কোথাও আছে কি-না, জানেন না এমন মন্তব্য করে বিশ্বম্ভরপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি স্বপন কুমার বর্মণ বলেন, এ নিয়ে অনেক সভায় কথা বলেছি, সংবাদও অনেক করেছি, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না।

তাহিরপুরের বালিজুরির বাসিন্দা বশির আহমদ বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে সুনামগঞ্জ থেকে তাহিরপুরে আসতে হয়। কোনো সময় সড়কে অটোরিকশাও পাওয়া যায় না। তখন মোটরসাইকেলে অনিরাপদ জেনেই সুনামগঞ্জ যেতে হয়।

জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমদ বলেন, সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর সড়ক বাস চলাচলের জন্য উপযোগী নয়। সড়কটি প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে এবং কেন্দ্রীয় বাস মালিক-শ্রমিক সমিতি থেকে অনুমতি নিয়ে এই সড়কে বাস চলাচল করবে।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর সড়কে বাস চলাচলের বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করেছি। সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির স্বার্থে দ্রুত এই সড়কে বাস চলাচলের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, বর্তমানে এই সড়কটিকে ১২ থেকে ১৮ ফুটে প্রশস্তকরণ কাজ চলছে। এ কাজ বাস্তবায়ন হলে সুনামগঞ্জ থেকে তাহিরপুরে বাস চালুর প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া বাস সার্ভিস চালুর ক্ষেত্রে বড় সমস্যা হলো তাহিরপুরে বাসস্ট্যান্ড নেই।