প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ১৭ পদের ১২টিই শূন্য

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০১৯      

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটে ভুগছে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। ফলে মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে দাপ্তরিক কাজকর্ম। উপজেলার ১৯৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র ১ জন উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও ৩ জন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার (এটিও)। এটিওর অভাবে নিয়মিত স্কুল পরিদর্শন না হওয়ায় শিক্ষকরা ঠিকমতো স্কুুলে যাচ্ছেন কি-না, সঠিকভাবে শ্রেণি কার্যক্রম চলছে কি-না, তাও নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ১৯৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়াও প্রায় ১০০টি বেসরকারি (কেজি) প্রাথমিক পর্যায়ের স্কুুল রয়েছে। ৮ বছর ধরে এটিওর অনুমোদিত ৯ পদের মধ্যে ৬টি শূন্য; উচ্চমান সহকারী পদটিও শূন্য। ১০ বছর ধরে অফিস সহকারীর ৪টি পদের মধ্যে ৩টি শূন্য। ৫ বছর ধরে হিসাব সহকারীর ১টি পদ শূন্য। আর ১৫ বছর ধরে শূন্য এমএলএসএস পদটি। এতে শিক্ষা অফিসের দাপ্তরিক কার্যক্রমসহ উপজেলার সার্বিক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষা অফিসের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী দপ্তরের অফিস সহকারী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, এ দপ্তরে সাতজনের স্থলে তিনি একাই কাজ পরিচালনা করছেন। এতে অনেক বেগ পেতে হয় তার। তিনি ছুটিতে গেলে সব কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন এখানে নানা কাজে আসা শিক্ষকরা।

বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানান, উপজেলার স্কুলগুলো নিয়ে ৬টি ক্লাস্টার ও ৩২টি সাব-ক্লাস্টার গঠিত। তিন মাস অন্তর প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে সাব-ক্লাস্টার মিটিং ও প্রতি মাসে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু উপজেলায় বেশিরভাগ এটিওর পদ শূন্য থাকায় সমন্বয় সভা ও ক্লাস্টার মিটিংয়ের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে না। শিক্ষকরা সময়মতো স্কুুলে যান কি-না, তারও তদারকি নেই। এ ছাড়া স্কুুলের এক কাজের জন্য বারবার শিক্ষা অফিসে যেতে হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। ফলে স্কুলে সময় কম দেওয়া হচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার আইয়ুব উদ্দিন জানান, এটিও সংকটে স্কুুল পরিদর্শন কার্যক্রম মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে ৩ জন এটিও মাসে ১০টি করে ৩০টি স্কুুল পরিদর্শন করছেন। অথচ সব পদে কর্মকর্তা থাকলে প্রতি মাসে ৯৫টি স্কুুল পরিদর্শন করা সম্ভব হতো। শূন্য পদ পূরণে ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম সফি আহমদ সলমান বলেন, শিক্ষা অফিসের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকায় কার্যক্রমে চরম ব্যাঘাত ও অচলাবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। পদগুলো নিয়মিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই এই জনবল সংকট নিরসন হবে।