দোয়ারাবাজারে সড়ক নির্মাণে অনিয়ম

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০১৯      

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

দোয়ারাবাজার উপজেলায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রিটিশ সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে জনমনে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কাজে অনিয়মের কারণে একাধিকবার এলাকাবাসীর সঙ্গে ঠিকাদারের লোকজনের বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। নিম্নমানের ঢালাই কাজ করতে গিয়ে স্থানীয়দের বাধার মুখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রেখেছে।

দোয়ারাবাজার-বাংলাবাজার সড়কের ব্রিটিশ পয়েন্ট হয়ে বালিউড়া পর্যন্ত জরাজীর্ণ সড়কটি ৩টি ইউনিয়নের জনগণের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম। চলাচল অনুপযোগী এই সড়কটি সংস্কার কাজ শুরু হলে উপজেলাবাসীর মাঝে আশার সঞ্চার হয়। কিন্তু কাজ শুরু করেই সংস্কার কাজে ঠিকাদারের ধীরগতির কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েন ৩টি ইউনিয়নের জনসাধারণ। নানা অনিয়মের মধ্যে অনেকটা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলে সংস্কার কাজ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ওই সড়ক সংস্কারের কাজ পেয়েছিলেন স্থানীয় এক ঠিকাদার। কিন্তু বড় বাজেটের প্রকল্পের কাজ করতে স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনাগ্রহী হলে পুনরায় কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দোয়ারাবাজার-ব্রিটিশ পয়েন্ট হয়ে বালিউড়াবাজার পর্যন্ত ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার কাজ পায় লক্ষ্মীপুর-ফরিদপুর কন্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত বছরের ২০ অক্টোবর সংস্কার কাজের উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক।

সরেজমিন দেখা গেছে, ৫০টি রডের মধ্যে ২৫টি রডের দুই পাশে ১ ফুট করে কম। আরসিসি ৮ ইঞ্চি ঢালাই করার কথা থাকলেও ৫ থেকে সাড়ে ৫ ইঞ্চি ঢালাই করে যাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সরকারি নিয়ম না মেনেই কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক এলাকাবাসী জানান, এই কাজের ডিজাইন অনুযায়ী কোনো কাজ করা হচ্ছে না। কাজের অনিয়ম নিয়ে স্থানীয় লোকজন কথা বললে মামলার ভয়ভীতি দেখায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন। মাটি মেশানো বালু ও ময়লা পাথর পরিস্কার না করেই রাস্তার ঢালাই কাজ চলছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাধ বেধে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাজ বন্ধ

করে দেয়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে পাথর সরবরাহকারী ও তদারকির দায়িত্বে থাকা আলমগীর হোসেন বলেন, উপজেলা প্রকৌশলী, প্রশাসন, স্থানীয় লোকজনসহ সবাই আমাদের বিপক্ষে। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা না পেয়ে আমরা র‌্যাবের সহযোগিতা চেয়েছি। তবে কাজের বিষয়ে মূল ঠিকাদার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রকৌশলী হরজিত সরকার অনিয়মের বিষয়ে বলেন, পাথরের সংকট ও ঢালাইয়ের কাজে টিকনেস কম থাকায় এলাকাবাসীর বাধার মুখে কাজ বন্ধ রয়েছে। কাজের অনিয়মের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।