সুনামগঞ্জের হাওরে মাছের পোনা নিধন

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০১৯

পঙ্কজ দে, সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জের হাওরে মাছের পোনা নিধন

সুনামগঞ্জে বন্যার পানিতে ঠেলা জাল দিয়ে মাছ ধরছে এক কিশোর- সমকাল

দুই দফা বন্যায় হাওর জলাশয়ে ভেসে যাওয়া পুকুরের মাছের পোনা এবং হাওর ও নদীতে বংশবিস্তার করা বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা শিকারে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে সুনামগঞ্জবাসী। জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাওরে মাছের পোনা নিধন করছেন মৎস্যজীবী এবং সাধারণ মানুষ।

তবে অবৈধভাবে নিধন করা বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা মোবাইল কোর্টের ভয়ে সুনামগঞ্জ শহরের প্রধান মাছ বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে না। এসব পোনা বিক্রি করা হচ্ছে, শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, পাড়া-মহল্লায়। এ ছাড়াও মাছের পোনা বিক্রি করা হয় আহসানমারা সেতুর পাশে, লালপুর পয়েন্ট, রাধানগর পয়েন্ট, চালবন্দ পয়েন্ট, ভেরাজালী বাজার, বেতগঞ্জ বাজার, শান্তিগঞ্জ বাজারসহ অন্যান্য গ্রামীণ হাট-বাজারে।

বন্যার শুরু থেকেই সদর উপজেলার সুরমা নদীতে হালুয়ারঘাট, রহমতপুর, গোদারগাঁও, মোহনপুর, জয়নগর, পুরান লক্ষণশ্রী, সদরগড়, ব্রাহ্মণগাঁও এলাকার মৎস্যজীবীরা বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ও রেণু পোনা নিধন করে চলেছেন। কাংলার হাওরের শিংপুরহাটী, বিরামপুর, বল্লভপুর, হরিণাপাটী, বালিকান্দি গ্রাম এলাকায় পোনা নিধন করা হচ্ছে। শিলুয়া বিল, মরাগাংসহ বিভিন্ন হাওর জলাশয়ে কোনা জাল, বের জাল, উতার জাল, কারেন্ট জাল, উড়াল জাল, ঠেলা জালসহ বিভিন্ন প্রকারের জাল দিয়ে স্থানীয় মৎস্যজীবী ও অমৎস্যজীবীরা মাছের পোনা শিকার করছেন। দেখার হাওর এলাকায় দরিয়াবাজ, আব্দুল্লাহপুর, ইছাগরি, সাদকপুর, পীরপুর, জলালপুর, চনপুর, লালপুর, রতনপুর, দুর্লভপুর, রহমতপুর, হাসনবশত, নীলপুর, জানিগাঁওসহ বিভিন্ন গ্রামের মৎস্যজীবীরা পোনা মাছ নিধন করছেন। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাগলা, ইনাতনগর, মহাশিং নদী এবং ডাবর সেতু এলাকায়, ছয়হারা সেতুর আশপাশ এলাকায় পোনা নিধন চলছে। খরচার হাওর এলাকার ধরেরপাড়, পিয়ারিনগর, ঘাগটিয়া, বাহাদুরপুর, চান্দারগাঁও, ব্রজনাথপুর, ভাদেরটেক প্রভৃতি এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা নিধন করা হচ্ছে। অথচ মাছের উৎপাদন বাড়াতে এ সময় মাছের পোনা বাঁচানো জরুরি।

মৎস্যজীবী নেতা আলাউর রহমান বলেন, সব হাওর জলাশয়ে মাছের পোনা নিধন করা হচ্ছে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা ছাড়া এই পোনা নিধন রোধ করা যাবে না। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সাংবাদিক স্বপন কুমার বর্মন জানান, প্রতি বছর মাছের পোনা নিধন হয়। যে মাছের পোনা শিকার করে এবং যে কিনে নিয়ে খায়, উভয়েই অন্যায় করছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল হক বলেন, জেলার সব হাওর জলাশয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার জন্য প্রতি উপজেলায় নির্দেশ দেওয়া আছে। মৎস্য সপ্তাহ চলাকালে এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। চলতি জুলাই মাসের মধ্যে যেকোনো সময় আরও পাঁচ বার মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।