ভবন আছে, গতি নেই কার্যক্রমে

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০১৯

পঙ্কজ দে, সুনামগঞ্জ

কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ভবনে আছে ৮টি অফিস কক্ষ। কনফারেন্স রুম, রেস্ট হাউস, গ্যারেজসহ নানা কিছু। এটি বাংলাদেশ হাওর জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর, সুনামগঞ্জের অফিস ভবন। শহরের ষোলঘর এলাকায় সুরমা নদীর পাড়ে মনোরম পরিবেশে করা হয়েছে এই ভবনটি। এই দৃষ্টিনন্দন অফিসে একজন অফিস সহকারী, একজন অফিস সহায়ক ও একজন দারোয়ান ছাড়া কেউ নেই। কাজও শুরু হয়নি সেই অর্থে। সুনামগঞ্জবাসীর দাবি, কেবল ভবন নয়, হাওরের জেলা সুনামগঞ্জে বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যক্রম শুরু হোক দ্রুততার সঙ্গে।

বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, এ পর্যন্ত এই অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বর্ণি বোরের উন্নয়ন (দ্বিতীয় পর্ব), সেন্ট্রাল ওয়েস্টার্ন ওয়েটল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড লাইভলিহুড ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট, কিশোরগঞ্জ জেলার নদী সুরক্ষা কাজ, কিশোরগঞ্জ জেলায় তরঙ্গ কর্মের বিরুদ্ধে গ্রাম সুরক্ষা, কিশোরগঞ্জ জেলায় প্রাক-বর্ষার বন্যা ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সারফেস জলের জন্য বিল, হাওর ইত্যাদির পুনঃখননের সম্ভাব্যতা যাচাই, জল ধারণ এলাকার উন্নয়ন, প্রত্যন্ত এলাকার পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিতকরণ, নদী খনন ও ভূমি উন্নয়ন, বাংলাদেশে উপকূলীয় অঞ্চল পরিচালনার জন্য জলাভূমিগুলোর স্পটিয়াল ডেটা অধিগ্রহণ।

তবে জনবল সংকটের কারণে এসব প্রকল্পের অনেকগুলোই আলোর মুখ দেখেনি। হাওরের কৃষি ও কৃষক রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, হাওর ও জলাভূমির উন্নয়নে গত তিন বছরে এই দপ্তর তেমন কিছুই

করতে পারেনি।

বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুল হক বলেন, এক সময়ের হাওর উন্নয়ন বোর্ডকেই ২০১৬ সালে বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর করা হয়েছে। এর জন্য ১১৮ জনের জনবল কাঠামোর অনুমোদন হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জন থাকবেন সুনামগঞ্জে। জনবল নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। জনবল নিয়োগ শেষে অন্যান্য কাজও এগিয়ে নেওয়া হবে।