বাহুবলে পোনা অবমুক্তকরণে অনিয়ম চেয়ারম্যানের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তোলপাড়

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৯      

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা মৎস্য অফিসে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। ৩৩৪ কেজির স্থলে মাত্র ৩০ কেজি পোনা অবমুক্ত করে কর্মসূচি শেষ করেছে মৎস্য অফিস। এ নিয়ে গত শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন বাহুবল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ খলিলুর রহমান। তবে ইউএনওর নির্দেশে শনিবার সকালে সেই স্ট্যাটাস প্রত্যাহার করে নেন তিনি।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বাহুবল উপজেলায় মৎস্য পোনা অবমুক্ত করার জন্য সম্প্রতি এক লাখ টাকা বরাদ্দ আসে। এ টাকা দিয়ে গত শুক্রবার ৩৩৪ কেজি পোনা অবমুক্ত করার কথা ছিল। হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনের এমপি শাহ নওয়াজ মিলাদ গাজী প্রধান অতিথি হিসেবে ওই দিন উপজেলার দীননাথ সরকারি মডেল স্কুলের পুকুরে এ পোনা মাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। কিন্তু বাহুবল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ খলিলুর রহমান ওই দিন উপজেলা মৎস্য অফিসের এ পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বর্জন করেন অনুষ্ঠান। এরপর রাতে তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে মৎস্য অফিসের 'অনিয়মের চিত্র' তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, 'উপজেলার কালাপুর সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের পুকুরের জন্য ৩০ কেজি পোনা পাঠালে তা ওজন করে ১৫ কেজি পাওয়া যায়'। শুধু তাই নয়, কোন প্রতিষ্ঠানে কত কেজি পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে, তার হিসাব তুলে ধরেন তিনি। তার হিসাবে ৩৩৪ কেজির স্থলে মাত্র ৩০ কেজি পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। ফেসবুকে উপজেলা চেয়ারম্যানের ওই স্ট্যাটাসের পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আয়শা হক তার সরকারি বাসভবনে জরুরি সভা ডাকেন। সভা শেষে উপজেলা চেয়ারম্যানকে ফোন করে তার ফেসবুক বক্তব্য তুলে নিতে বলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ খলিলুর রহমান বলেন, 'নিজের দায়বদ্ধতা থেকেই আমি তা ফেসবুকে তুলে ধরি। পরে ইউএনওর অনুরোধে তা তুলে নিই। একটি মহল এখন এ স্ট্যাটাসকে সরকারবিরোধী মন্তব্য হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।'

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আয়শা হক বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান প্রশাসনের অংশ। তিনি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে সরকারবিরোধী মন্তব্য করেছেন। যে কারণে ভোরে আমি উপজেলা চেয়ারম্যানকে মোবাইল ফোনে স্ট্যাটাস প্রত্যাহার করে নিতে অনুরোধ করি।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মিসবাহ উদ্দিন আফজাল বলেন, এখানে কোনো দুর্নীতি করা হয়নি।