প্রাক্কলিত ব্যয় অনুমোদন হয়নি ৩ বছরেও

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৯      

পঙ্কজ দে, সুনামগঞ্জ

সড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় বাংলাদেশ-ভারতের দোয়ারাবাজার সীমান্তে নির্মিত নতুন আরও একটি বর্ডার হাট উদ্বোধনে বিলম্ব হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর চলাচলের সুব্যবস্থা এবং আগামী ডিসেম্বর মাসে বর্ডার হাট চালু করতে দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

দুই দেশের সংশ্নিষ্ট উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে ২০১৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর দোয়ারাবাজার উপজেলায় বর্ডার হাটের স্থান নির্ধারণের জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের পদস্থ কর্মকর্তাদের যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বোগলাবাজার ইউনিয়নের বাগানবাড়ি এলাকায় জিরো পয়েন্টে সীমান্ত হাটের স্থান নির্ধারণ ও দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক সাবিরুল ইসলাম এবং ভারতের সীমান্তবর্তী জেলা পূর্ব খাসিয়া ল্যান্ডের জেলা প্রশাসক শ্রী পিএস ধর। দুই দেশের মধ্যবর্তী স্থান বাগানবাড়ি এলাকায় এই যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর ২০১৮ সালে শুরু হয় দুই দেশের সীমান্ত বাগানবাড়িতে বর্ডার হাট নির্মাণের কাজ।

শনিবার সরেজমিনে বাগানবাড়ি বর্ডার হাটে গিয়ে দেখা যায়, বর্ডার হাটের ভারতীয় সীমানায় ১২টি এবং বাংলাদেশের সীমানায় ১৩টি দোকানের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ। ভারতীয় অংশে বর্ডার হাট পর্যন্ত সংযোগ সড়কের কাজও শেষ পর্যায়ে।

স্থানীয় বোগলা বাজার ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, বর্ডার হাটের নির্মাণকাজ শেষের দিকে। কিন্তু বোগলাবাজার-বাগানবাড়ি সড়কের ২৭০০ মিটারের মধ্যে মাত্র ৫০০ মিটারের কাজ হয়েছে। বাকি ২২০০ মিটার এখনও মাটির সড়ক। এই অংশে থাকা একটি সেতুর অ্যাপ্রোচও ধসে গেছে।

তিনি জানান, সড়ক না হওয়ায় পেশকারগাঁও ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা, পেশকারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইদুকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাছগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রুসমত আলী-রামসুন্দর স্কুল অ্যান্ড কলেজের হাজারো শিক্ষার্থীকে কাদামাটি দিয়ে হেঁটে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। এ ছাড়া ভোগলা ইউনিয়নের ধর্মপুর, কৈয়াজুরি, পেশকারগাঁও, ইদুকোনা, রাজাপুর, বাগানবাড়ি, গাছগড়া ঠেগপাড়া এবং লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ভাঙাপাড়ার মানুষের চলাচলেও সমস্যা হয়।

দোয়ারাবাজার উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অফিসের একটি সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর বোগলাবাজার-বাগানবাড়ি সড়ক প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় তৈরি করে সুনামগঞ্জে নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে পাঠান তারা। এরপর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এই প্রাক্কলন যাচাই-বাছাই করে ২৩ অক্টোবর সংশ্নিষ্ট প্রকল্প পরিচালক বরাবরে ঢাকায় পাঠান। এখনও এর কোনো অগ্রগতি হয়নি।

সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল আহমদ জানালেন, এই প্রকল্পটির প্রাক্কলন ব্যয় অনুমোদিত হলেই দরপত্র আহ্বান এবং কাজ শুরু করা হবে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জানালেন, ডিসেম্বরে এই বর্ডার হাট উদ্বোধন করতে চায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। দ্রুতই সংযোগ সড়কসহ সব কাজ শেষ করে আগামী ডিসেম্বরে দোয়ারাবাজার সীমান্তের বর্ডার হাট উদ্বোধনের চেষ্টা চলছে।