বিদ্যুৎ বিভ্রাটে প্রায়ই পণ্ড হয় অনুষ্ঠান

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমিতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন নিয়মিত ঘটনা। সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা ও সংস্কৃতিকর্মীদের সংগঠিত হওয়ার একমাত্র স্থান জেলা শিল্পকলা একাডেমির নতুন ভবন হওয়ার ফলে সংস্কৃতি চর্চায় প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। কিন্তু প্রায় প্রতিটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগে বা অনুষ্ঠানের মাঝ পর্যায়ে হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ চলে যায়। শিল্পকলার জেনারেটরও দীর্ঘদিন ধরে বিকল রয়েছে। এতে দর্শকরা বিরক্ত হয়ে চলে যান। অনেক কষ্ট করে সাজানো অনুষ্ঠান বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে নষ্ট হয়ে যায়। দীর্ঘদিনের শ্রম ও অর্থ ব্যয় ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। এ নিয়ে জেলার সংস্কৃতিকর্মীদের মাঝে ক্ষোভও রয়েছে। তারা জানান, সংস্কৃতির রাজধানীতে বিদ্যুতের আসা-যাওয়ায় অনুষ্ঠান পণ্ড হওয়ার ঘটনার চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট থেকে রক্ষা পেতে শিল্পকলাকে বিকল্প আরেকটি লাইনের সঙ্গে যুক্ত করার দাবিও জানিয়েছেন শিল্পী-সংগঠকরা।

শহরের একতা নাট্য সংস্থার সভাপতি গৌতম কর তপন বলেন, 'বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে নানান সমস্যায় জর্জরিত হই। একটা মঞ্চে একটা সেটে যখন কাজ করি, তখন আমাদের ইউনিটে পঞ্চাশ থেকে একশ জনের টিম থাকে। এই টিম নিয়ে যখন আমরা অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে যাই, অনুষ্ঠান শুরু করব এমন সময় দেখা যায় বিদ্যুৎ চলে গেছে, দর্শক হতাশ হয়ে চলে যান। আয়োজকদের তখন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে অনেক সময় দেখা যায় অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হওয়ার কথা, শুরু হচ্ছে ৮টায়।'

জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শিল্পকলা একাডেমির জেনারেটর দীর্ঘদিন ধরে বিকল অবস্থায় পড়ে আছে। এ কারণে অনুষ্ঠান করতে গেলে আমাদের বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। একটি ভালো মানের জেনারেটর প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, শিল্পকলা একাডেমি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের দুটি লাইন রয়েছে। এই দুটি লাইন যদি আমরা ব্যবহার করতে পারি, তাহলে বিদ্যুৎ সমস্যা থেকে সাময়িকভাবে রক্ষা পাব।

সংস্কৃতিকর্মী দেবাশীষ তালুকদার শুভ্র বলেন, প্রতিটি সংগঠনই স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসে আগে থেকেই অনুষ্ঠানের সময় জানিয়ে অনুরোধ করেন। এ সময়টা যেন শিল্পকলা এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকে। দুঃখের বিষয় এত কষ্ট করে সাজানো একেকটা অনুষ্ঠান সৌন্দর্য হারায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে।

সুনামগঞ্জ জেলা কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী পাভেল বলেন, শিল্পসংস্কৃতির বাতিঘর জেলা শিল্পকলা একাডেমি। জেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নানা রকম অনুষ্ঠানে সারা বছরই জমজমাট থাকে। জেলার একটি মাত্র আধুনিক মঞ্চে নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠান আয়োজন করা সকলেরই একান্ত প্রত্যাশা। কিন্তু দীর্ঘদিনের শ্রম ও অর্থ ব্যয়ের মধ্যে দিয়ে যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, তা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে স্বপ্নভঙ্গের কারণ হয়। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ছাড়া একটি অনুষ্ঠান সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করা যায় না। জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ডাবল লাইনের বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন একটি আধুনিক জেনারেটর প্রয়োজন।

সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইসমাইল হোসেন বলেন, শিল্পকলার একাডেমির অভ্যন্তরীণ লাইনে অনেক সমস্যা। আমরা অভিযোগ পেয়ে কয়েকদিন মেরামতকারী দল পাঠিয়েছি, ওরা গিয়ে দেখেছে আমাদের সরবরাহ লাইনে কোন ত্রুটি নেই। দুটি লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হলে, তাদের আবেদন করতে হবে। পাশে বিকল্প কোনো ফিডার থাকলে ব্যবস্থা করা যাবে।