১৪ বছর ধরে ওসমানীনগর ছাত্রলীগের কমিটি নেই

হতাশ কর্মীরা

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০১৯      

ওসমানীনগর (সিলেট) প্রতিনিধি

সিলেটের ওসমানীনগরে নতুন প্রজন্মের যারা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, তারা কর্মী থেকেই ছাত্রজীবন পার করে দিচ্ছেন। কমিটি না থাকা এবং দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে কমিটি গঠন না হওয়ায় পদ-পদবি পাওয়ার সুযোগ বঞ্চিত রয়েছেন তারা। বিভিন্ন সময়ে নতুন কমিটি গঠনের স্বপ্ন দেখানো হয়। কিন্তু দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের কিছু নেতার অনীহার কারণে ছাত্রলীগের কমিটি গঠন হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। যার কারণে চরম হতাশা বিরাজ করছে ছাত্রলীগ কর্মীদের মাঝে।

সর্বশেষ ২০০২ সালে ফয়সল আহমদ সুমনকে সভাপতি এবং রিংকু পালকে সাধারণ সম্পাদক করে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের কিছুদিন পর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্থায়ীভাবে প্রবাসে চলে যান। ২০০৫ সালে এই কমিটি ভেঙে দেওয়া হলে নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ে ছাত্রলীগ। এরপর কোনো কমিটি গঠিত না হওয়ায় নতুন প্রজন্মের কর্মীদের পদ-পদবি পাওয়ার কোনো সুযোগ হয়নি। ১৪ বছরে শুধু কর্মী অবস্থায় থেকে অনেকের ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে এবং অনেকের শেষ হওয়ার পথে। সর্বশেষ ২০১৭ সালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন ওসমানীনগরে এলে দ্রুততম সময়ে ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত কমিটি হয়নি। নেতৃত্বশূন্য থাকায় ছাত্রলীগের কর্মীরা আওয়ামী লীগের বিবদমান গ্রুপ ও উপ-গ্রুপের সঙ্গে জড়িয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী এবং যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামানের নেতৃত্বে দুটি গ্রুপ রয়েছে উপজেলায়। দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে অহিনকুল সম্পর্ক। এ ছাড়া অনেক উপ-গ্রুপও রয়েছে। ছাত্রলীগের কর্মীরা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন গ্রুপের নেতার অনুসারী হয়ে রাজনীতি করছেন।

ছাত্রলীগ কর্মী ইমরান হোসেন বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা চান না উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি হোক। যার কারণে নতুন প্রজন্মের ছাত্রলীগ কর্মীরা পদ-পদবি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

ছাত্রলীগের রনি পাল বলেন, আওয়ামী লীগের গ্রুপিংয়ের কারণে কমিটি হচ্ছে না। ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করতে জরুরি ভিত্তিতে কমিটি গঠনের জোর দাবি জানান তিনি।

জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি পংকজ পুরকায়স্থ বলেন, 'আমি ওসমানীনগরের সন্তান। নিজ এলাকায় রাজনীতি করার মধ্য দিয়ে জেলায় অবস্থান পেয়েছি। ওসমানীনগর উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিলেও স্থানীয় একাধিক নেতার অনীহার কারণে তাদের সম্মান দিতে গিয়ে কমিটি গঠন করতে পারিনি। এ ছাড়া বেশি সময়ও পাইনি আমি।'

ওসমানীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদাল মিয়া বলেন, উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের দায়িত্ব জেলা ছাত্রলীগের। এখানে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কিছু করার নেই।

আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান চৌধুরী নাজলু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জেলা ছাত্রলীগের কমিটিও নেই। যার কারণে উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি হচ্ছে না।