দুই জেলায় হামলা-সংঘর্ষে মুক্তিযোদ্ধাসহ আহত ১৬

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০১৯      

গোয়াইনঘাট (সিলেট) ও জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

সিলেটের গোয়াইনঘাটে ভূমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার, তার দুই ছেলে ও দুই নারীসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন- উপজেলার নয়াগাঙেরপার গ্রামের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা খায়রুল ইসলাম ও তার ছেলে রফিকুল ইসলাম ও জহিরুল ইসলাম, একই গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেমের ছেলে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হাসান আলী এবং মোতালেব মিয়ার স্ত্রী শাহানা বেগম ও তার বোন সাজেদা বেগম। গত শনিবার দুপুরে উপজেলার নয়াগাঙেরপার ও রাধানগর বাজারে দুই দফা হামলায় তারা আহত হন। আহতদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা খায়রুল ইসলাম দুই যুগ আগে তাদের মালিকানা সম্পত্তির একটি অংশ একই গ্রামের মোতালেব মিয়ার কাছে বিক্রি করেন। সম্প্রতি একই গ্রামের আরিফ ও ফালু মিয়াসহ তাদের আত্মীয়-স্বজন মোতালেবের বসতবাড়ির কিছু অংশের মালিকানা নিজেদের বলে দাবি করেন। এতে ওই ভূমির মালিকানা নিয়ে মোতালেব মিয়ার সঙ্গে আরিফ মিয়া ও ফালু মিয়াদের বিরোধ দেখা দেয়। বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত শনিবার খায়রুল ইসলামের বাড়িতে স্থানীয় ব্যক্তিরা সালিশ বৈঠকে বসেন। বৈঠক চলাকালীন মোতালেবের স্ত্রী শাহানা বেগম ও তার বোন সাজেদা বেগমের সঙ্গে প্রতিপক্ষ আরিফ, ফালু ও তার স্বজনের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে আরিফ ও তার স্বজনরা মিলে শাহানা ও সাজেদা বেগমের ওপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে তারা দু'জনই গুরুতর আহত হন। এ সময় খায়রুল ইসলামসহ কয়েকজন আহত ওই দুই নারীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্দেশে রওনা দিলে পথিমধ্যে আরিফ মিয়া ও তাদের স্বজন কৈকান্দিরপাড় গ্রামের হযরত আলী, তার ছেলে শাখাওয়াত হোসেন, আব্দুর রহিম, সুমন মিয়া এবং বাদশা মিয়ার ছেলে ফয়জুর রহমান, আকবর আলীর ছেলে মামুন ও সোহেলসহ ১৫-২০ জনের একটি দল মোটরসাইকেলে তাদের গতিরোধ করে দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আবার তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে খায়রুল ইসলাম ও তার দুই ছেলে এবং ভাগ্নে হাসান গুরুতর আহত হন।

এদিকে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে মাছ ধরা নিয়ে দু'পক্ষের সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের মোজাহিদপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

মোজাহিদপুর গ্রামের রানু খান ও একই গ্রামের জাহির মিয়া পক্ষের লোকজনের মধ্যে বুইয়া বিল নিয়ে বিরোধ চলছিল। গতকাল সকালে বিরোধপূর্ণ বিলে রানু খানের পক্ষের লোকজন মাছ ধরতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন বাধা দেয়। একপর্যায়ে দু'পক্ষের লোকজন দেশি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হন। স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহান আহমদ বলেন, মাছ ধরা নিয়ে দু'পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী জগন্নাথপুর থানার এসআই রফিক জানান, পরিস্থিতি এখন শান্ত। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।