নদী খননের মাটি রাখা হলো স্কুলের বারান্দায়

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০১৯      

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)

বৌলাই নদী ড্রেজিং করে সেই মাটি স্তূপ করে রাখা হয়েছে স্কুলের বারান্দায়। ফলে চাপা পড়ে গেছে শ্রেণিকক্ষের দরজা-জানালা। শ্রেণিকক্ষ খুলতে না পেরে তাই বন্ধ রয়েছে পাঠদান। তাহিরপুর উপজেলার চিকসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানের এই অবস্থা।

গতকাল রোববার সরেজমিন সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে স্কুলের সামনে এসে জড়ো হন গ্রামের লোকজন। জানালেন, একটু আগে ছাত্রছাত্রীরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতে না পেরে বাড়িতে ফিরে গেছে।

এ ঘটনায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাদাত মিয়া বলেন, অটিবিএল ড্রেজিং কোম্পানির লোকজন বৌলাই নদী খননের কাজ করছে। গ্রামের লোকজন কোম্পানির প্রতিনিধি রাজু আহমেদ ও সোহেলকে বলেছি যেভাবে বিদ্যালয়ের মাঠে ও বারান্দায় মাটি ফেলা হচ্ছে, এতে করে বিদ্যালয়ের দরজা খোলা যাবে না এবং নলকূপটিও মাটির নিচে পড়ে যাবে। এ কথা বলার পরও তারা আমাদের কোনো কথা রাখেননি।

চিকসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়ের মেঝেতে পানি, বারান্দায় মাটিতে চাপা কোনো দরজাই খোলা যাচ্ছে না। নলকূপটিও চার ফুট মাটির নিচে চাপা পড়েছে। এ অবস্থায় রোববার ছাত্রছাত্রীরা ক্লাস করতে পারেনি।

গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুন নূর মিয়া বলেন, ড্রেজিং কোম্পানি প্রথমে বলেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাটি ভরাট করবে। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তারা মাটি ফেলেছে এলোমেলোভাবে। আর স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গায় মাটি ফেলেছে সুন্দরভাবে। তবে দালালের নাম বলতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

চিকসা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য উপজেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক বাচ্চু মিয়া বলেন, স্কুলের শিক্ষার্থীদের কথা, পাঠদানের কথা না ভেবে এভাবে মাটি স্তূপ করে রাখা স্বেচ্ছাচারিতা। সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই এর দায়ভার নিতে হবে।

তাহিরপুর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক হাফিজ উদ্দিন বলেন, ঠিকাদারের লোকজনের অবহেলার কারণে এমন ঘটনাটি হলো তা খুবই দুঃখজনক। এর ক্ষতিপূরণ ঠিকাদারকেই দিতে হবে। অটিবিএলের প্রতিনিধি রাজু আহমদ বলেন, 'আমি ঢাকায় আছি। ঢাকা থেকে এসে বিষয়টি দেখব।' তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির হাসান বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। আজ সোমবার সরেজমিন তিনি দেখবেন। এরপর ব্যবস্থা নেবেন।