'এক দিন সিলেট গেলে ৩ দিন শরীলো বেদনা থাকে'

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

আনোয়ার হোসেন আনা, ওসমানীনগর (সিলেট)

'এক দিন সিলেট গেলে ৩ দিন শরীলো বেদনা থাকে'

বেহাল বালাগঞ্জ-সুলতানপুর সড়কে যানবাহন নিয়ে প্রায়ই দুর্ভোগে পড়তে হয় চালকদের সমকাল

'এক দিন সিলেট গেলে তিন দিন শরীলো (শরীরে) বেদনা থাকে।' বালাগঞ্জ-সুলতানপুর-সিলেট সড়কের দুরবস্থা বোঝাতে এভাবেই কথাগুলো বললেন মোড়ারবাজারের ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন। সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে প্রায় ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজ শুরু হলেও গত ২০ মাসে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ঠিকাদার নিজের খুশি মতো কাজ করলেও বিষয়টি যেন দেখার কেউ নেই। কাজ শেষ হতে আর কত বছর লাগবে তার হিসাব কারও জানা নেই।

জানা যায়, ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বালাগঞ্জ-সুলতানপুর-সিলেট সড়কের কার্পেটিং ও বিটুমিন উঠে গেছে। খানাখন্দের কারণে আট বছর ধরে ভোগান্তিতে আছে এলাকাবাসী। স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরীর উদ্যোগে সড়কটি ১৮ ফুট প্রশস্তকরণসহ সংস্কারের জন্য ৬৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজটি পায় ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন (জেবি)। ২০১৮ সালের ২০ ডিসেম্বর কাজটি শুরু হয়ে চলতি বছরের ২০ ডিসেম্বর শেষ করার কথা থাকলেও বিভিন্ন অজুহাতে কালক্ষেপণ করেন ঠিকাদার। কর্তৃপক্ষের অগ্রগতি প্রতিবেদন অনুযায়ী কাজের ৩৪ শতাংশ সম্পন্ন হলেও বাস্তবে দুই বাজার এলাকার কিছু জায়গায় আরসিসি ঢালাই ছাড়া তেমন কোনো কাজ হয়নি বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। অথচ কাজ শেষ করার জন্য মাত্র তিন মাস বাকি আছে।

সরেজমিন দেখা যায়, সড়কজুড়ে জালের মতো রয়েছে খানাখন্দ। এসব জায়গায় বৃষ্টির পানি জমে থাকায় ঝুঁকি নিয়ে হেলেদুলে যানবাহন চলতে দেখা যায়। স্থানীয়রা জানান, ভগ্নদশার কারণে সড়কে বাস চলাচল বন্ধ হয়েছে অনেক আগে। অটোরিকশাই এখন ভরসা। যানবাহন খানাখন্দে উল্টে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। দুর্ভোগের সঙ্গে গুনতে হয় দ্বিগুণ ভাড়া।

অটোরিকশা চালক সামছু মিয়া বলেন, সড়কটি গাড়ি চলাচলের মোটেও উপযোগী নয়। ভাঙা সড়কে গাড়ি চালাতে গিয়ে অনেকেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। যে টাকা আয় করি তার চেয়ে বেশি ব্যয় হয় গাড়ি মেরামতে।

মোড়ারবাজারের ব্যবসায়ী মানিক মিয়া বলেন, আর কতকাল দুর্ভোগ পোহাতে হবে, আমাদের জানা নেই। গত বছরের শুরুতে কাজ শুরু হলেও দুই বাজারের কিছু জায়গা আরসিসি ঢালাই ছাড়া তেমন কাজ হয়নি। ঠিকাদার নিজের খেয়ালখুশি মতো কাজ করলেও তা দেখার কেউ নেই।

দেওয়ানবাজার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইছরাক আলী বলেন, সড়কের কারণে সীমাহীন দুর্ভোগে রয়েছে মানুষ। গত বছর সংস্কার কাজ শুরু হলেও সড়কে দৃশ্যমান তেমন কোনো কাজ হয়নি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মামুন আহমদ বলেন, পাথর সংকট এবং করোনার কারণে কিছু কাজের গতি কম ছিল। তবে কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী রিতেশ বড়ূয়া বলেন, চলমান বর্ষা, কভিড পরিস্থিতি, পাথর সংকট ইত্যাদি কারণে কাজের অগ্রগতি ধীর হয়েছে। ঠিকাদারকে সড়ক মেরামতের জন্য তাগাদা দেওয়া হয়েছে। বর্ষা শেষে কাজের অগ্রগতি বৃদ্ধি পাবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।