হাতে উঠে আসছে কার্পেটিং

বৈরাগীবাজার কাঠলিপাড়া সড়ক

প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০২০

আহমেদ ফয়সাল, বিয়ানীবাজার (সিলেট)

হাতে উঠে আসছে কার্পেটিং

বিয়ানীবাজারে বৈরাগীবাজার-কাঠলিপাড়া সড়ক থেকে উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং- সমকাল

সড়কের সংস্কার কাজ শেষ হয়নি। এর মধ্যে উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং। দেখা দিচ্ছে ফাটল ও ধস। বিয়ানীবাজার উপজেলার বৈরাগীবাজার থেকে ফেঞ্চুগঞ্জের কাঠলিপাড়া পর্যন্ত ফিডার রোডের বেহাল অবস্থায় হতাশ এলাকাবাসী। সড়কের প্রথম সাড়ে ছয় কিলোমিটার সংস্কার কাজ চলমান অবস্থায় পলেস্তারা উঠে যাওয়া, ফাটল ও ধস দেখা দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। প্রশ্ন তোলেন সংস্কার কাজের মান নিয়ে। তাদের অভিযোগ, সংস্কার কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ও বিটুমিন ব্যবহার করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, কুশিয়ারা নদীর ফিডার রোডটির প্রথম ছয় কিলোমিটার সংস্কার কাজের ঠিকাদারি পায় মেসার্স জহিরুল ইসলাম এন্টারপ্রাইজ। প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা ব্যয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে কাজের দায়িত্ব দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রকৌশল বিভাগ। গত বছর সড়কের ম্যাকাডামসহ অন্যান্য কাজ শুরু হয়। তবে করোনাভাইরাসের কারণে কাজ কিছুদিন বন্ধ ছিল। গত আগস্ট থেকে কয়েক ধাপে ম্যাকাডামের উপর পলেস্তারা দেওয়ার কাজ শুরু হয়। এরই মধ্যে চার কিলোমিটার কাজ সম্পূর্ণ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, এখনও সড়কের দুই কিলোমিটারের বেশি অংশের কাজ শেষ হয়নি। এর মধ্যে সড়কের পলেস্তারা উঠে যাচ্ছে। সড়কে দেখা দিচ্ছে গর্ত ও ফাটল। এর মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালপত্র বোঝাই ট্রাক সড়কের গবিন্দ্রশ্রী অংশে ধস নামিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়েন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দা নজমুল হোসেন বলেন, কাজের মান নিয়ে আমরা বারবার অভিযোগ জানালেও ঠিকাদারের লোকজন অভিযোগ তোয়াক্কা করেনি। উপজেলা প্রকৌশল অফিসের দায়িত্বশীলদের বিষয়টি জানালে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা। তবে আমাদের প্রশ্ন, সঠিক নিয়মে কাজ হলে এখনই পলেস্তারা উঠছে কেন? রফিকুল ইসলাম নামের আরেকজন বলেন, সড়কের পাশে ধস নামিয়ে ঠিকাদারের মালবাহী ট্রাক খাদে পড়ে যায়। সড়কের বেশকিছু অংশে দেখা দিয়েছে ফাটল। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর কাজ শুরু হওয়ায় আমরা আনন্দিত ছিলাম। কিন্তু এখন হতাশ।

এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জহিরুল এন্টারপ্রাইজের দায়িত্বশীলদের কাউকে কাজের জায়গায় পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করে তাদের পাওয়া যায়নি। এ কারণে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, রাস্তার কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। কাজের অনেক কারিগরি বিষয় আছে। কাজ সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে। নতুন কার্পেটিং করা রাস্তা দিয়ে মালবাহী ট্রাক প্রবেশ করায় পলেস্তারা উঠছে, দেখা দিয়েছে ফাটল ও ধস। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি আমরা।