বিজ্ঞানমনস্ক লেখক অনন্ত বিজয় দাশ হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ আবার পিছিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার নির্ধারিত তারিখে কোনো সাক্ষী না আসায় সিলেটের সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল আমিন বিপ্লব সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ পেছান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম।

এদিকে নানা অজুহাতে বারবার মামলার তারিখ পিছিয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনন্ত বিজয় দাশের স্বজনরা। পাঁচ বছরেও মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিজয় দাশের ভগ্নিপতি অ্যাডভোকেট সমর বিজয় শী শেখর।

সমর বিজয় শী শেখর বলেন, কখনও আসামি অনুপস্থিত আবার কখনও সাক্ষী অনুপস্থিত। এভাবে বারবার মামলার কার্যক্রম পিছিয়ে যাচ্ছে। এতে করে বিচার প্রাপ্তি নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে আমাদের মধ্যে। তিনি বলেন, ছেলে হত্যার বিচার না দেখে পরপারে চলে গেছেন অনন্ত বিজয়ের বাবা রবীন্দ্র কুমার দাশ। মা পীযূষ রানী দাশও শয্যাশায়ী।

২০১৫ সালের ১২ মে নগরীর সুবিদবাজারে নিজ বাসার সামনে খুন হন বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক অনন্ত বিজয় দাশ। কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হলে উগ্রবাদীরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় মামলা হয়। পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করে। এর মধ্যে ছয়জন কারান্তরীণ। ২০১৮ সালের ৭ মে সিলেটের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলার সর্বশেষ সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। এরপর সাক্ষীদের অনুপস্থিতির কারণে বারবার পেছায় সাক্ষ্যগ্রহণ।

দীর্ঘদিন সিলেটের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলার পর দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির জন্য গেল বছর মামলাটি সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। তবে করোনার কারণে গত বছর দীর্ঘদিন আদালতের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এ পর্যন্ত চাঞ্চল্যকর এ মামলার ১৬ সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম বলেন, এই মামলায় মোট ২৯ জন সাক্ষী রয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচ বছরে মাত্র ১৬ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। নানা কারণে বারবার সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে যাওয়ায় বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে।

মন্তব্য করুন