মৌলভীবাজারে পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি খুব খারাপভাবে পরাজিত হয়েছে। তিনটি পৌরসভাতেই বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা পরাজয় বরণ করেছেন। অন্যদিকে নির্বাচন শেষ হওয়া তিন পৌরসভায় আওয়ামী লীগ ঈর্ষণীয় বিজয় অর্জন করেছে। এ জয়-পরাজয়ের পর্যালোচনায় সচেতন মহল বিএনপি নেতাকর্মীদের অনৈক্য ও রাজনৈতিক অদূরদর্শিতাকে দায়ী করেছেন। তবে বিএনপির স্থানীয় নেতারা আওয়ামী লীগের পেশিশক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করাকে দায়ী করেছেন।

গত ২৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরসভায় ইভিএমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবুল ইমাম মোহাম্মদ কামরান চৌধুরী পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৯৭৮ ভোট। তার বিপরীতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম পেয়েছেন মাত্র ৫৯৪ ভোট। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইদুল ইসলাম পেয়েছিলেন তিন হাজার ৭৬ ভোট। গত শনিবার অনুষ্ঠিত জেলার কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের দুই মেয়র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। কুলাউড়া পৌরসভায় বিজয়ী আওয়ামী লীগের প্রার্থী অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ পেয়েছেন চার হাজার ৮৩৮ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ শাজান হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে পেয়েছেন চার হাজার ৬৮৫ ভোট। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শফি আলম ইউনুছ পান দুই হাজার ৯৯৪ ভোট। সেখানে চার প্রার্থীর মধ্যে চতুর্থ হওয়া বিএনপি কামাল উদ্দিন জুনেদ পেয়েছেন মাত্র এক

হাজার ৭৭৬ ভোট।

কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল বলেন, ক্ষমতাসীন দলের কালো টাকা ও প্রশাসনিক একচোখা নীতির প্রভাবে জিম্মি রাজনীতি এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের পেশিশক্তির কারণে সাধারণ ভোটার স্বাধীন মত প্রকাশ করতে পারছেন না।

কমলগঞ্জ পৌরসভায় নির্বাচনী জয়-পরাজয়ে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আবুল হোসেন আলোচনার মধ্যেই ছিলেন না। ভোটের ফলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জুয়েল আহমদ পান পাঁচ হাজার ২৫৭ ভোট। বিএনপি প্রার্থী আবুল পেয়েছেন ৩০১ ভোট।

বিএনপির নাজুক পরাজয় সম্পর্কে কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম কিবরিয়া শফি বলেন, বিএনপির নেতাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতায় প্রার্থী বাছাইয়ে তীব্র সমস্যা হয়েছে। তা ছাড়া বর্তমান নির্বাচন নিয়ে প্রান্তিক মানুষের মাঝে অনাস্থা ও বিএনপি নেতাকর্মীদের নানাভাবে হুমকি দেওয়ায় তারা নির্বাচনী কার্যক্রমে থাকতে পারেননি। যে কারণে বিএনপি প্রার্থীর ভরাডুবি ঘটেছে কমলগঞ্জে।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানূর রহমান ভিপি মিজান বলেন, নিরপেক্ষ প্রশাসনের অধীনে সবার জন্য নিরাপদ নির্বাচনী সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হলে বিএনপি প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হতেন।

বাংলাদেশ জাসদের জেলা কমিটির সভাপতি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আ স ম সালেহ সুহেল বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের জনসম্পৃক্ততা না থাকা, নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার ফলে ক্ষমতাসীন দলের একক আধিপত্য নীতির কারণে মৌলভীবাজারে বিএনপির এ বিপর্যয় হয়েছে।

মন্তব্য করুন