বড়লেখায় অভিনব কায়দায় ৩ প্রতারক আগর-আতর ব্যবসায়ী ছয়েফ উদ্দিন রেনুর লাখ টাকার আগরগাছ লুট করেছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে মূল প্রতারক আবুল হাসান মনাইয়ের বাড়ি থেকে লুণ্ঠিত আগরগাছের অংশবিশেষ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় গাছের মালিক ছয়েফ উদ্দিন রেনু গত মঙ্গলবার রাতে মনাইসহ ৩ প্রতারকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন।

মনাইয়ের বিরুদ্ধে চোরাই আগরগাছ ক্রয়, জাল টাকার কারবার ও সুদের ব্যবসাসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, আগর-আতর ব্যবসায়ী ছয়েফ উদ্দিন রেনু ৫ বছর আগে উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউপির কাশেমনগর গ্রামের আপ্তাব আলীর বাড়িতে একটি আগরগাছ কিনে রাখেন। সম্প্রতি তিনি গাছটি বিক্রি করতে চাইলে দোহালিয়া গ্রামের মৃত রায়াফ উদ্দিনের ছেলে আবুল হাসান মনাই দাম করেন। কিন্তু উপযুক্ত মূল্য না দেওয়ায় মনাইয়ের কাছে রেনু গাছটি বিক্রি করেননি। এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে মনাই তার সহযোগী নুরই মিয়া ও নিজের মালিকানাধীন অটোরিকশাচালক আব্দুল আজিজকে পাঠিয়ে প্রতারণামূলকভাবে গাছটি কেটে অটোরিকশাযোগে বাড়িতে নিয়ে যান। খবর পেয়ে গাছের মালিক রেনু বিকেলে পুলিশ নিয়ে মনাইয়ের বাড়ি থেকে লুণ্ঠিত গাছের অংশবিশেষ উদ্ধার করেন। এ সময় কৌশলে প্রতারক মনাই বাড়ি থেকে সটকে পড়েন।

ছয়েফ উদ্দিন রেনু বলেন, প্রতারক মনাই বাড়ির মালিককে আমি তার কাছে গাছ বিক্রি করেছি বলে প্রতারণা করে দিন-দুপুরেই তার দুই সহযোগী দিয়ে আমার লাখ টাকার আগরগাছ লুট করেছেন। যাতে ধরা না পড়ে সে জন্য বাড়িতে নিয়ে দ্রুত আগর বের করতে গাছ কেটে টুকরো টুকরো করতে থাকেন। এ সময় গাছ শনাক্ত করেছি। পুলিশ গাছের অংশবিশেষ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় তিনি প্রতারক মনাই, আব্দুল আজিজ ও নুরই মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

অভিযুক্ত আবুল হাসান মনাই জানান, তিনি রেনুর আগরগাছ ক্রয়ের জন্য দাম করেছেন ঠিকই, কিন্তু তা কেটে আনেননি। তার অটোরিকশাচালক আব্দুল আজিজ ও নুরই মিয়া তার নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা করেছে।

থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার জানান, অভিযোগ পেয়েই পুলিশ পাঠিয়ে আসামি আবুল হাসান মনাইয়ের বাড়ি থেকে লুণ্ঠিত আগরগাছের অংশবিশেষ জব্দ করে থানায় নিয়েছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।

মন্তব্য করুন