সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের ফুলমলিক-চন্দ্রগ্রামকে বিভক্ত করে রেখেছিল করতির খাল। করতির খালের ওপর কোনো সেতু না থাকায় দুই গ্রামের মানুষকে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল। শুকনো মৌসুমে যোগাযোগ কিছুটা সহজ হলেও বর্ষা মৌসুমে ভোগান্তি যেত আরও বেড়ে। জনপ্রতিনিধি কিংবা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে বার বার একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। তাই গ্রামবাসী নিজেদের উদ্যোগেই একটি বাঁশের সেতু তৈরি করলেন। সেতুর ওপর দিয়ে এখন অটোরিকশা, মোটরবাইকও চলছে। এভাবেই দুই গ্রামে যোগাযোগের নতুন সূচনা করলেন গ্রামবাসী।

নিজস্ব অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমে সেতুর আদলে তারা বাঁশের সেতু নির্মাণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপনের পাশাপাশি দূর করলেন দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ভোগান্তির। একই সঙ্গে গ্রামবাসীর আশা, করতির খালের ওপর স্থায়ী সেতু নির্মাণ করে দুর্ভোগ লাঘব করবে প্রশাসন।

খালের ওপর দেড়শ ফুট দীর্ঘ বাঁশের সেতু নির্মাণ করে অসাধ্যকে সাধন করেছেন ফুলমলিক গ্রামের বাসিন্দারা। নির্মিত বাঁশের এ সেতু দিয়ে এখন নির্বিঘ্নে চলছে অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহন। গ্রামবাসী বাঁশ দিয়ে তৈরি সেতুর নাম দিয়েছেন 'বাঁশের ব্রিজ'। এ বাঁশের সেতু তৈরি করতে ১২শ বাঁশ ও দুই লাখ টাকা ব্যয় করেছেন ফুলমলিক গ্রামের মানুষ।

ফুলমলিক এলাকার রফিক উদ্দিন বাছন জানান, করতির খালের ওপর কোনো সেতু না থাকায় এতদিন অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে তাদের।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মুক্তার আলী বলেন, সেতু না থাকায় এতদিন রোগী, প্রসূতি কিংবা বৃদ্ধদের চলাচলে খুবই অসুবিধা হচ্ছিল। এখন এখানে স্থায়ী সেতু নির্মাণ করতে হবে প্রশাসনকে।

শুক্রবার স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁশের সেতু উদ্বোধন করা হয়।

মন্তব্য করুন