মানব পাচারকারীসহ গ্রেপ্তার ২৬ জন

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

অপরাধমূলক কার্যকলাপে জড়িতদের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। গাড়ি চুরি, মাদকদ্রব্য বিক্রি, হত্যা মামলার পলাতক আসামি, ধর্ষণ মামলার আসামি, মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যসহ ২৬ ব্যক্তিকে চলতি মাসে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে তিনটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, একটি প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া তার দপ্তরে মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পুলিশ সুপার জানান, গত শুক্রবার শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামানের নেতৃত্বে উপজেলার মাইজদিহি নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে তিনটি সিএনজিসহ চোরচক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে, গত সোমবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবিএম মুজাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম শ্রীমঙ্গল শহরের শ্যামলী এলাকা থেকে একটি প্রাইভেটকারসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। এদিকে চাঞ্চল্যকর তৃতীয় লিঙ্গের অঞ্জনা হত্যা মামলার আসামি আসুক মিয়াকে ১৫ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বিজয়নগর থেকে গ্রেপ্তার করে। পর্যটন শহর শ্রীমঙ্গলের এক রিসোর্ট কর্মচারী রেজওয়ান হোসেনকে সম্প্রতি পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে ভিডিও করে এক দম্পতির আপত্তিকর ছবি ধারণের সময় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মডেল থানায় করা চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণ মামলার চার আসামিকে গত ১৯ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয় সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে। তাছাড়া শ্রীমঙ্গলে বসবাস করা মানব পাচারকারী চক্রের মূল হোতা আসমাসহ পাঁচজনকে সম্প্রতি গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া বিশেষ অভিযানে জেলাব্যাপী মাদকদ্রব্য বিক্রির সঙ্গে জড়িত ১৩ ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনেছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে জেলার সাত থানায় ২১টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে মডেল থানায় সবচেয়ে বেশি ৯টি মামলা হয়েছে। বিশেষ অভিযানে উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে ৩০৬ লিটার দেশি মদ, ২৮১ বোতল বিদেশি মদ, ৩৯ পিস ইয়াবা ও ২৭০ গ্রাম গাঁজা।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া জানান, মৌলভীবাজারের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।