৪৪ বছর ধরে মাঠ নিয়ে টানাহেঁচড়া

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

৪৪ বছর ধরে মাঠ নিয়ে টানাহেঁচড়া

দোয়ারাবাজারের পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের খেলার মাঠটির বেহাল দশা সমকাল

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের একমাত্র খেলার মাঠটি কয়েক যুগ ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। মাঠের ভেতরের ব্যক্তি মালিকানাধীন ৯০ শতক জমির আইনি জটিলতা দূর না হওয়ায় এটি পরিত্যক্ত রয়েছে।

জমির মালিকানার সুরাহা না হওয়ায় মাঠ নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছেন জমির মালিকরা। এদিকে মাঠে বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি থাকায় খেলার মাঠ ব্যবহার করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ফলে একদিকে এলাকার ক্রীড়াপ্রেমীরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির অংশের মালিকেরাও মাঠের জমি ভোগদখল করতে পারছেন না। ফলে পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের এ খেলার মাঠটি ৪৪ বছর ধরে কোনো কাজে আসছে না। বেশ কয়েক বছর ধরে মাঠের জমির দখলদারিত্ব ফিরে পেতে অনেকেই আইনিভাবেও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

১৯৭৭ সালে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম শফিকুল ইসলাম এ মাঠের গোড়াপত্তন করেন। হাজী কনু মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ডুমরোয়া মৌজার ৫০২ দাগে ১ একর ৬০ শতাংশ জমি নিয়ে এ মাঠের অবস্থান। তার মধ্যে ৭০ শতক জমি ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের এবং বাকি ৯০ শতক জমি বিভিন্ন ব্যক্তির মালিকানাধীন। সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে পান্ডারগাঁও খেলার মাঠের ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি সরকারিভাবে অধিগ্রহণ করে মাঠটি দ্রুত খেলাধুলার উপযোগী করা হোক, এমনটাই দাবি এলাকাবাসীর।

স্থানীয় বাসিন্দা কলেজ শিক্ষার্থী আব্দুর রহিম রাসেল বলেন, 'এ মাঠ ছাড়া আমাদের ইউনিয়নে বিকল্প আর কোনো খেলার মাঠ নেই। মাঠটি বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা। মাঠের পার্শ্ববর্তী স্কুলের শিক্ষার্থী ও ইউনিয়নবাসীর বৃহৎ স্বার্থে মাঠের ব্যক্তি মালিকাধীন জমির জটিলতা নিরসন করে মাঠটি দ্রুত খেলাধুলার উপযোগী করে গড়ে তোলার

দাবি জানাচ্ছি।'

আফসরনগর গ্রামের বাসিন্দা শরিয়ত আলী তালুকদার বলেন, 'মাঠে আমার মতো বেশ কয়েকজনের ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি রয়েছে। সামান্য জমিটুকুই আমাদের পরিবারের সম্বল। বছরের পর বছর ধরে আমরা আমাদের জমি ভোগদখল করতে পারছি না, আবার ক্ষতিপূরণও পাচ্ছি না।'

পান্ডারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ বলেন, এই মাঠের জমির জটিলতার বিষয়ে সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এই মাঠের জমি অধিগ্রহণ করে এটিকে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে রূপান্তর করতে সংশ্নিষ্ট প্রশাসন, সংসদ সদস্য এবং সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

দোয়ারাবাজার ইউএনও সোনিয়া সুলতানা বলেন, মাঠের জমি অধিগ্রহণের এখতিয়ার উপজেলা প্রশাসনের নেই। এটি সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে করা হয়। এ বিষয়ে কোনো সমস্যা থাকলে ভুক্তভোগীরা লিখিতভাবে আবেদন করতে পারেন।