গত সপ্তাহের টানা তিন দিনের ছুটিতে পর্যটকের ঢল নেমেছিল সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে। কর্মব্যস্ত জীবনে খানিকটা স্বস্তির খোঁজে ছুটে আসা মানুষের বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাসে পুণ্যভূমির পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে সৃষ্টি হয়েছিল অন্যরকম এক আবহ। অন্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মতো মুখরিত হয়ে উঠেছিল গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি, রাতারগুল ও জাফলং। সবচেয়ে বেশি পর্যটকের সমাগম হয়েছে জাফলংয়ে। অন্যান্য উৎসবের চেয়ে লক্ষণীয় ভিড় ছিল।

গত শুক্রবার সকাল থেকে সপ্তাহজুড়েই জাফলংয়ে পর্যটকদের ভিড় ছিল। কয়েক দিনে বিপুলসংখ্যক পর্যটক আসায় তাদের ফেলে যাওয়া খাবারের প্যাকেট, কোমল পানীয়র খালি বোতল, চিপস ও বিস্কুটের খালি প্যাকেটসহ বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনায় ছেয়ে যায় মূল পর্যটনকেন্দ্র ও এর আশপাশ এলাকা। ফলে নোংরা হয়ে যায় গোটা পর্যটন এলাকার পরিবেশ।

বিষয়টি নজরে এলে ট্যুরিস্ট পুলিশ জাফলং জোনের ইনচার্জ রতন শেখ তার সহকর্মীদের নিয়ে ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করার কাজে নেমে পড়েন। গত মঙ্গল ও বুধবার টানা দুই দিন জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন যায়গায় পর্যটকদের ফেলে যাওয়া ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করেন তারা। ট্যুরিস্ট পুলিশের এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান দেখে এলাকার সচেতন মহলসহ জাফলংয়ে আগত পর্যটকরা তাদের বাহবা দেন।

জাফলং ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ রতন শেখ জানান, 'আমি কয়েক দিনের ছুটি নিয়ে বাড়ি গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি জাফলং জিরো পয়েন্ট ও এর আশপাশ এলাকা ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে। নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন হয়ে উঠেছে গোটা এলাকার পরিবেশ। পর্যটকদের ফেলে যাওয়া আবর্জনায় জিরো পয়েন্টের সাদা পাথর ও এর আশপাশের এলাকা ভাগাড়ে পরিণত হয়ে যায়। বিশ্রী হয়ে পড়ে এলাকার পরিবেশ। তাই পর্যটন কেন্দ্রের পরিবেশ সুরক্ষায় সবাইকে নিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নেমে পড়ি। এসব ময়লা-আবর্জনা কুড়িয়ে একটি জায়গায় জড়ো করে তা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলি।' জাফলংয়ের সৌন্দর্য ধরে রাখতে ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলবে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য করুন