তাহিরপুর-মধ্যনগর সাবমারসিবল সড়কের উঁচু-নিচু খানা-খন্দ পেরুতে পেরুতে দুই মোটরবাইক যাত্রী পথের তিক্ততা ব্যক্ত করতে করতে পথ পাড়ি দিচ্ছেন মধ্যনগর অভিমুখে- 'কোন দিন যে সড়কটা মেরামত করবো আর আমরার ভোগান্তি কমবো, ওপরওলাই জানে। এর চাইতে বাইশ্যা (বর্ষা) মাসই ভালা। নৌকায় আইলাম, নৌকায় গেলাম। অত ভোগান্তি নাই।' দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় তাহিরপুর-মধ্যনগর সাবমারসিবল সড়কটির অবস্থা এতটাই খারাপ যে, ওই সড়ক ব্যবহার না করে স্থানীয়রা এখন তার পাশ দিয়ে মাটির রাস্তা তৈরি করে সেটিই ব্যবহার করছেন।

সাবমারসিবল সড়ক হলো শুস্ক মৌসুমে হাওর এলাকার যে নিচু রাস্তাগুলোতে ব্লক স্থাপন অথবা আরসিসি ঢালাই করে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা হয়, সেগুলো। এই রাস্তাগুলো বর্ষায় পানিতে ডুবে থাকে বলে এর নাম সাবমারসিবল সড়ক।

তাহিরপুর-মধ্যনগর সাবমারসিবল সড়কের অবস্থা এখন এতটাই খারাপ যে, এ পথ ধরে উপজেলা সদরে প্রতিনিয়ত যাতায়াতকারী দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ২৫ গ্রামের মানুষ, জেলা সদরে জরুরি যাতায়াতকারী মধ্যনগর থানা ও ধর্মপাশা উপজেলার যাত্রী সাধারণ এখন আর এটি নিয়ে কথা বলতে চান না।

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) তাহিরপুর সূত্রে জানা যায়, তাহিরপুর-মধ্যনগর সাবমারসিবল সড়কের তাহিরপুর অংশে ১৬ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে। হাওরবেষ্টিত উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন এবং পার্শ্ববর্তী ধর্মপাশা উপজেলার অন্তর্গত মধ্যনগর থানার সঙ্গে হেমন্তকালে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে ২০০৯ সালে প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু করে 'এলজিইডি সিবিআরএমপি প্রকল্প'। প্রথম বছর উপজেলা সদর থেকে সুলেমানপুর বাজার পর্যন্ত ব্লক দিয়ে ৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়। ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সুলেমানপুর নদীর পশ্চিম পাড় থেকে লামাগাঁও বাজার পর্যন্ত এবং ২০১৫ সালে তাহিরপুরের লামাগাঁও থেকে মধ্যনগর থানার মাছিমপুর পর্যন্ত আরও ৯ কিলোমিটার সড়কের আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করে 'এলজিইডি হিলিপ প্রকল্প'। এ রাস্তা এখনও ঠিক আছে।

এদিকে প্রথম দুই বছর বর্ষায় ডুবে থাকার পরও সাবমারসিবল সড়কটি হেমন্তকালে ব্যবহারের উপযোগী ছিল। ২০১২ সালের পর তাহিরপুর সদর থেকে লামাগাঁও বাজার পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার সাবমারসিবল সড়কটিতে ব্লক স্থানে স্থানে দেবে যায়। এরপর ধীরে ধীরে ব্লকের জোড়াগুলো খুলে যাওয়ায় পথের মধ্যে এলোমেলোভাবে তা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। এ সড়কটি মেরামত না করায় দিন-দিন এটি একেবারেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

উপজেলা সদর থেকে দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের লামাগাঁও গ্রামের দূরত্ব ১৫ কিলোমিটার। গ্রামের নারী ইউপি সদস্য লিপি বেগম। তিনি প্রতিদিনই তাহিরপুর উপজেলা সদরে আসেন। তার মতে এই সড়কে একবার যে আসে, দ্বিতীয় বার সে আর আসতে চাইবে না।

মধ্যনগর থানার শিক্ষাবিদ গোলাম জিলানি বলেন, 'হেমন্তকালে আমাদের এই পথ দিয়ে জেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়। সড়কটির তাহিরপুর অংশের ১৬ কিলোমিটার এত খারাপ যে উঁচু-নিচু ব্লকের সড়ক পাড়ি দিতে গিয়ে প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে শরীরে ব্যথা হয়ে যায়।'

দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের পাঠাবুকা গ্রামের রিপসান হাবিব বলেন, সড়কটি ভালো থাকলে এই সড়কে অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করতো। ভালো না থাকায় সে ব্যবস্থা নেই। ফলে পণ্য পরিবহনসহ নানা কাজে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে এলাকাবাসী।

উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী ফজলুল হক বলেন, 'সড়কের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। আমরা সাবমারসিবল সড়কটি মেরামতের জন্য ভিন্ন ভিন্ন প্রকল্প পাঠিয়েছি।'

সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যেই তাহিরপুর মধ্যনগর রাস্তাটি পুনরায় মেরামত ও সংস্কার করা হবে।

মন্তব্য করুন