সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে নদী ও খালবিলের তলদেশ শুকিয়ে মাছ নিধনের কাজ করছে কিছু লোকজন। নদী শুকানোয় জামালগঞ্জের বেহেলী ইউনিয়নের পুটিয়া বাঁধের ভাঙন অংশে নির্মিত ক্লোজার হুমকির মধ্যে পড়েছে। এই ক্লোজারটি ধসে গেলে বেহেলী ইউনিয়নের জুমের খাড়া হাওরের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

স্থানীয়রা জানান, বাধা উপেক্ষা করে বেহেলী ইউনিয়নের পুটিয়া ও হরিনগর গ্রামের মাঝখানে অবস্থিত বৌলাইয়ের শাখা নদী (পুটিয়া নদী) শুকিয়ে মাছ ধরার চেষ্টা করছে একটি চক্র। সেচের কারণে নদীলাগোয়া ৪২ নম্বর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) আওতাভুক্ত ভাঙনে নির্মিত ক্লোজারটিও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। পানি শুকিয়ে যাওয়ায় (বাঁধের ভাঙনের অংশে নির্মিত আরেকটি বড় বাঁধ) ক্লোজার তীরবর্তী ফসলি জমি ধসে পড়ছে। বাঁধের কিনারে দেখা দিয়েছে ফাটল। একটু বৃষ্টি হলেই ধসে পড়তে পারে ক্লোজার। নদী শুকিয়ে মাছ ধরায় একদিকে ঝুঁকিতে পড়েছে হাওররক্ষা বাঁধ, অন্যদিকে রোধ হচ্ছে মাছের বংশবিস্তার। এলাকাবাসী বাধা দিলেও এই কাজ বন্ধ করছে না স্থানীয় একটি চক্র। নেপথ্যে প্রভাবশালীরা থাকায় এমন ক্ষতিকর কাজ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তারা জানান, বেহেলী ইউনিয়নের হরিনগর (বাগানী) গ্রামের মৃত সিরাজ মিয়ার ছেলে তুরাব আলী ও আব্দুর রহিমের ছেলে কামাল হোসেন, হরিনগর গ্রামের মৃত তুতা মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ও জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের কামলাবাজ গ্রামের তারেক মিয়া এই নদী শুকানোর কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এতে করে বাঁধ ঝুঁকিতে জানিয়ে বেহেলী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও ৪২ নম্বর পিআইসি সভাপতি জালাল উদ্দিন বলেন, 'খবর পেয়ে আমি দ্রুত সেখানে যেতে যেতে তারা চলে যায়। পরে ফোন করে তাদের পানি সেচ বন্ধ করতে বলি। তারা আমাকে পানি সেচ করবে না বলে জানিয়েছেন। আমি আবার সেখানে যাব।'

ইউএনও বিশ্বজিত দেব বলেন, এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি সেখানে যাবেন।

অভিযুক্তদের একজন তুরাব আলী বললেন, 'এলাকাবাসী বাধা দেওয়ায় নদীতে লাগানো তিনটি পাম্পই রোববার সরিয়ে এনেছি। আমরা আর পাম্প লাগাবো না।'

মন্তব্য করুন