সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের শনির হাওর ও মৌলভীবাজারের কাউয়াদীঘি হাওরে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। বুধবার সকালে শনির হাওরে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে বোরো ধান কাটা শুরু করা হয়।

ধান কাটা উৎসবে অংশ নেন জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এস এম শহিদুল ইসলাম, উপজেলা চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ফরিদুল হাসান প্রমুখ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান-উদ-দৌলা জানান, বুধবার সকালে উপজেলা সদরের ভাটি তাহিরপুর গ্রামের ছালিম উদ্দিনের এক একর বোরো জমির ধান কাটার মধ্য দিয়ে ধান কাটা শুরু হয়। চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার ২৩টি হাওরে ১৭ হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হাওরে ধান কাটার সুবিধার্থে উপজেলার বালু-পাথর মহাল বন্ধ রাখা হবে এবং কয়লা ও চুনাপাথর শ্রমিকের কাজ বন্ধ রাখা হবে। যাতে বিকল্প কাজ না করে সবাই ধান কাটার কাজে নিয়োজিত থাকেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ধান কাটার শ্রমিকরা যাতে সড়কপথে নিরাপদে চলাচল করতে পারেন, সেজন্য তিনি শ্রমিক এলাকার জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারদের চিঠি পাঠাবেন।

এদিকে, মৌলভীবাজারে এ বছর ৫৬ হাজার ৩৪৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। হাওর পাড়ের মানুষ করোনা উপেক্ষা করে ধান কাটার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। বুধবার দুপুরে রাজনগরের সোনাটিকি এলাকার কাউয়াদীঘি হাওরে বোরো ধান কাটার উদ্বোধন করেছেন জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান।

রাজনগর উপজেলার সোনাটিকি গ্রামের কাউয়াদীঘি হাওরপাড়ের এক কৃষকের জমির ধান কাটার মধ্য দিয়ে জেলা প্রশাসক বোরো ধান কাটার সূচনা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক ড. লুৎফুল বারী, রাজনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঊর্মি রায়, উপজেলা কৃষি অফিসার শাহাদুল ইসলামসহ গণমাধ্যমকর্মীরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, হাকালুকি, হাইল হাওর, কাউয়াদীঘি, হাওর কড়াইয়া, বড় হাওরসহ বিভিন্ন ছোট-বড় হাওরে এ বছর ৫৬ হাজার ৩৪৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। এ বছর ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দুই লাখ ১৭ হাজার টন।

জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, সব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে হাওরাঞ্চলের কৃষকরা যাতে সহজে সময় মতো ধান গোলায় তুলতে পারেন, সেজন্য সব ধরনের সহযোগিতা করবে জেলা প্রশাসন।

মন্তব্য করুন