কুলাউড়ায় উপবৃত্তিপ্রাপ্ত দুই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রতারণা করে প্রায় দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বছর শিক্ষার্থীদের বিকাশ অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছে উপবৃত্তির টাকা। আর তা জমা হয়েছে শিক্ষার্থীদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে। হ্যাকাররা গ্রামের অসহায় শিক্ষার্থীদের নম্বরে ফোন দিয়ে টাকা এনক্যাশ করার কথা বলে বিকাশ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এরকম দুটি ঘটনা ঘটেছে কুলাউড়া সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া তাবাসসুম ও হালিমা আক্তারের সঙ্গে। সাদিয়া উপজেলা সদর ইউনিয়নের প্রতাবী গ্রামের বাসিন্দা ইন্তাজ আলীর মেয়ে। আর হালিমা পৌর শহরের উত্তর জয়পাশা এলাকার আহসান উল্লাহর মেয়ে।

প্রতারণার শিকার হালিমা জানায়, একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে তার বাবার ব্যবহূত মোবাইল নম্বরে ফোন দিয়ে একজন উপবৃত্তির ১৫ হাজার টাকা জমা হয়েছে বলে জানান। এ সময় তাদের ফোন নম্বরে আসা ভেরিফিকেশন কোডটি ওই ব্যক্তির কাছে পাঠালে তিনি টাকা পাঠাবেন বলে জানান। এরপর আবার ফোন করে বলেন, ওই টাকা পাওয়ার জন্য বিকাশ এজেন্টের কাছে যেতে হবে। তখন হালিমা ও তার বাবা বিকাশ এজেন্টের কাছে যান। সেখানে যাওয়ার পর কুলাউড়া শহরের একটি বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে কয়েকটি নম্বরে পর্যায়ক্রমে ২৪ হাজার ৫০০ টাকা করে প্রায় ১ লাখ টাকা দেন উপবৃত্তির টাকা এনক্যাশ করার জন্য। পরে বুঝতে পেরে তিনি বিকাশ অফিসে জানালে তারা থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন।

একইভাবে প্রতারণার শিকার হওয়া অপর শিক্ষার্থী সাদিয়া তাবাসসুমও প্রতারক চক্রের ফোন কলে বিভ্রান্ত হয়ে এজেন্টের দোকান থেকে তার পার্সোনাল নম্বরে ২৪ হাজার ৫০০ টাকা পাঠানোর সঙ্গে সঙ্গেই তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ফেলা হয়। এরপর থেকেই ওই মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বিষয়টি বিকাশ অফিসে জানালে তারা থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেয়।

কুলাউড়া থানার ওসি বিনয় ভূষণ রায় বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তিনি উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নিজেদের বিকাশের কোড এবং পিন নম্বর দিতে নিষেধ করে প্রতারক চক্রের বিষয়ে সাবধান করেন।

মন্তব্য করুন