প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে। দৈনিক শনাক্তের হার ২০ শতাংশ। এর আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংক্রমিত নতুন ধরনের করোনা সিলেটেও পাওয়া গেছে। চলতি মাসের শুরুতে সংক্রমণের হার বৃদ্ধির পাশাপাশি মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়েছে।\হকরোনা চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউ বেডের সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে। করোনা শনাক্তদের পাশাপাশি অধিকাংশ উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীকে বেড সংকটের জন্য ভর্তি করা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের ব্যাপারেও সাধারণ মানুষের মধ্যে অবহেলা রয়েছে। জেলা প্রশাসন ও সিলেট সিটি করপোরেশন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলেও তাতে সুফল মিলছে কম।\হগত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে চারটি পিসিআর ল্যাবে ১৪৩ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত রোগীদের মধ্যে সিলেট জেলার ৭৬, হবিগঞ্জের ২৫, সুনামগঞ্জের ৭ ও মৌলভীবাজারের ১৩ জন। এ ছাড়া ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত\হহয়েছে। সব মিলে সিলেট বিভাগে ১৮ হাজার ৬৭৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।\হগতকাল পর্যন্ত ১৬ হাজার ৭৪৮ জন সুস্থ হয়েছেন। বর্তমানে শনাক্ত আছেন এক হাজার ৯২৮ জন। তাদের মধ্যে ৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ হাসপাতালে চিকিৎসা\হনিচ্ছে। তবে উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর জন্য হাসপাতালে চাপ বাড়ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের দৈনিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তদের মধ্যে ৪৯ জন সুস্থ হয়েছেন এবং নতুন করে ১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গতকাল সকাল পর্যন্ত সব মিলে ১৮১ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে সিলেটে ১৭০, হবিগঞ্জে ৭ ও মৌলভীবাজারে ৪ জন। একই সময়ে করোনায় সিলেটে আরও দু'জনের মৃত্যু হয়েছে। সিলেট জেলার বাসিন্দা এই দু'জনকে নিয়ে সিলেট বিভাগের চার জেলা মিলে ৩০১ জন মারা গেলেন। তাদের মধ্যে সিলেট জেলায় ২৩২, সুনামগঞ্জে ২৬, হবিগঞ্জে ১৮ এবং মৌলভীবাজারের ২৫ জন মারা গেছেন।\হএই বিভাগের মধ্যে সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জে সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ বেড নেই। শুধু সিলেটে শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৬টি ও মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঁচটি আইসিইউ বেড রয়েছে।

শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সুশান্ত কুমার মহাপাত্র সমকালকে বলেন, এখানে ১৬টি আইসিইউ বেডের মধ্যে দুটি করোনা আক্রান্ত কিডনি রোগীর ডায়ালাইসিসের জন্য রিজার্ভ রাখা হয়। ওয়ার্ড ও কেবিন মিলে আরও ৮৪টি বেড রয়েছে। একজন ডায়ালাইসিসের রোগীসহ আইসিইউতে ১৫ রোগী ছিলেন।\হএ ছাড়া আরও ৮২ রোগী সাধারণ ওয়ার্ড ও কেবিনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে ৩৮ জন শনাক্ত ও বাকিরা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন।

প্রথম দফায় শনাক্তের সংখ্যা বাড়লে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা ইউনিট চালু করা হয়েছিল। সিলেট বিভাগের সব ধরনের জটিল রোগীদের চিকিৎসার প্রধান ভরসা এই হাসপাতাল। করোনা ইউনিট চালু হলে অন্য রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া চ্যালেঞ্জে পড়ে। তারপরও বর্তমান পরিস্থিতিতে আবার ২০০ বেডের করোনা ইউনিট প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায়।\হসিলেটে করোনা শনাক্তের জন্য চারটি পিসিআর ল্যাবে প্রতিদিন চার জেলার সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষা করা হয়। গত শনিবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে ২৩৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৪৭ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। এই ল্যাবে শনাক্তের হার ২০ শতাংশ। ওসমানী হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় জানান, ওসমানী মেডিকেল কলেজের ল্যাবে করোনা শনাক্তের হার সাম্প্রতিক সময়ে ২০ শতাংশের কাছাকাছি।\হকরোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা দিয়ে আসা বেসরকারি নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের আইসিইউ বেডও খালি নেই। নগরীর আখালিয়ায় মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ৮টি আইসিইউ বেড রয়েছে।\হঅন্যদিকে দক্ষিণ সুরমায় নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০টি আইসিইউ বেডে আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ দুটি হাসপাতালে কোনো আইসিইউ বেড খালি নেই। নগরীর দরগা গেট এলাকায় বেসরকারি নুরজাহান হাসপাতালে ৮টি আইসিইউ ও ২৩টি সাধারণ বেডের করোনা ইউনিট ফের চালু করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন