বাজারদরের চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম বলে স্বল্প আয়ের মানুষের ভিড় টিসিবি পণ্যের ট্রাক ঘিরে। সুনামগঞ্জের পুরোনো ১৫ টিসিবির ডিলার পর্যায়ক্রমে মালপত্র তুলে বিক্রি করছেন। বৃহস্পতিবার নতুন আরও তিন ডিলারকে টিসিবির শেরপুর অফিস থেকে মালপত্র দেওয়া হয়েছে। নতুন-পুরোনো মিলিয়ে বৃহস্পতিবার সাত ডিলার মালপত্র তুলেছেন।

টিসিবির সিলেট বিভাগীয় অফিসের দায়িত্বশীলরা জানান, সুনামগঞ্জ শহরে পুরো রমজান মাসে প্রতিদিন দুই ডিলারকে মালপত্র দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ১৪০০ কেজি চিনি, ১২০০ কেজি ডাল, ২৪০০ লিটার তেল, ১২০০ কেজি ছোলা, ২০০ কেজি খেজুর এবং ১০০০ কেজি পেঁয়াজ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন বলেছেন, প্রতিদিন দুই ডিলারকে শহরে পণ্য বিক্রি করতে কমই দেখেছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন, এত পণ্য যায় কোথায়?

১ এপ্রিল থেকেই টিসিবির পণ্য কিনতে ভিড় ছিল ক্রেতার। ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে পারেননি ডিলাররা।

টিসিবির সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রধান ইসমাইল মজুমদার বলেন, সুনামগঞ্জ শহরে পণ্য বিক্রির জন্য শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন দু'জন ডিলারকে পণ্য দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, দিরাই, ছাতক, শাল্লা ও দোয়ারাবাজার উপজেলা সদরে সপ্তাহে একজন ডিলারকে বিক্রির জন্য পণ্য দেওয়া হয়।

সুনামগঞ্জ শহরের নবীনগরের বাসিন্দা মঈনুদ্দিন বললেন, প্রতিদিন দু'জন ডিলারকে সুনামগঞ্জ শহরে বিক্রির জন্য পণ্য দেওয়া হয়ে থাকলে টিসিবির ডিলারের ট্রাকে এত ভিড় হওয়ার কথা ছিল না। সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের একজন ডিলার নামোল্লেখ না করার অনুরোধ করে বললেন, মালপত্র টিসিবি থেকে তুলে প্যাকেট করে শহরে বিক্রি করা কচ্ছে কিনা, তা মনিটরিং করা জরুরি।

দোয়ারাবাজারের বিণয় ট্রেডার্সের মালিক টিসিবি ডিলার বিণয় চক্রবর্তী বললেন, সুনামগঞ্জ শহরে বিক্রির জন্য আমাকে সপ্তাহে দুই দিন মালপত্র দেওয়া হয়েছে। আমি মালপত্র তুলে বিক্রির সময় শহরের অনেক দায়িত্বশীলদেরও ফোন করে বলেছি এসে দেখার জন্য।

টিসিবির সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রধান ইসমাইল মজুমদার বললেন, বৃহস্পতিবারও সুনামগঞ্জের সাতজন ডিলারকে টিসিবির চিনি, তেল এবং ডাল দেওয়া হয়েছে। তারা মালপত্র সঠিকভাবে ক্রেতাদের দিচ্ছে কিনা, সেটি দেখভাল করবে স্থানীয় প্রশাসন। কেউ অনিয়ম করলে তাদেরই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা।

মন্তব্য করুন