নবীগঞ্জ উপজেলার এক সময়ের খরস্রোতা নদীগুলো মরা খাল, ধু-ধু বালুচরে পরিণত হয়েছে। নদীর বুক চিরে চাষ হচ্ছে সোনালি ফসল। ভরাট হয়েছে শতাধিক খাল, বিল, ডোবা ও জলাধার। বিলীন হতে চলছে নদীর অস্তিত্ব। ফলে ফসল চাষে বিপর্যয় নেমে এসেছে। হুমকির মুখে পড়ছে বিভিন্ন প্রজাতির ব্যাঙ, কচ্ছপ, শামুকসহ দেশীয় মাছ। নদীগুলো ছিল এই এলাকার মানুষের জীবিকার মাধ্যম। নদীর পানি দিয়ে চলত চাষাবাদ এবং পূরণ হচ্ছে দেশি মাছের চাহিদা।

পরিবেশবিদদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া খরস্রোতা নদীগুলোর কোনো কোনোটা স্রোতহীন আবার কোনোটা শুকিয়ে গেছে। অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে শাখা বরাক, ডেবনাসহ অর্ধশতাধিক নদী। এতে পানিপ্রবাহ হ্রাস পেয়েছে। কৃষিকাজে খরচ বেড়েছে।

ডেবনা বরাক নদীর শাখা নদী হিসেবে পরিচিত। খরস্রোতা শাখা বরাক নদীটি নবীগঞ্জের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এলেও এখন তা অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাহাড়ি ছড়া দিয়ে নেমে আসা বালুমাটি ও পলি জমে নদীর উৎস মুখ ভরাট হয়ে গেছে। এতে তা মরা নদীতে পরিণত হয়েছে। বেকার হয়ে পড়েছে শত শত জেলে পরিবার। পরিবারগুলো এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে ডেবনা নদীর পরিবেশ বিপন্ন ও বৈচিত্র্যহীন হয়ে পড়েছে। নদীর পাড়ে গড়ে উঠেছে বসতভিটা। এ নদীর পানি দিয়েই কৃষকরা শত শত হেক্টর জমি চাষ করতেন।

দেবপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান জাবিদ আলী বলেন, আমার ইউনিয়নের শাখা বরাক নদী সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে, পুনর্খনন করা না হলে এটি দিয়ে বর্ষা মৌসুমেও নৌকা চলাচল ও পানি নিস্কাশন সমস্যার সম্মুখীন হবে।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম বলেন, আমরা নবীগঞ্জের ভরাটকৃত নদী নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন।

নবীগঞ্জ বাহুবল এলাকার সংসদ সদস্য গাজী শাহনওয়াজ মিলাদ বলেন, কয়েকটি নদীর নাব্য হারানোয় তা পুনর্খননে পানিসম্পদ মন্ত্রীকে ডিও লেটার প্রদান করেছি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ছাদু মিয়া বলেন, কয়েকটি খননের প্রকল্প পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে পাঠিয়েছি।

মন্তব্য করুন